ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

রাজধানীতে কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড়সহ সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ, ফয়সাল আহম্মেদ। গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্র। গ্রেপ্তারের সময় ক্যাম্পাসের হোস্টেলের একটি রুম থেকে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ও বিভিন্ন ব্যাগ-বস্তা থেকে ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়। কঙ্কালগুলো তারা ক্রেতাদের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতো। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া রাস্তার উপর অবৈধ উপায়ে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে। পরে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল অনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী একইদিন দুপুর অনুমানিক সাড়ে তিনটায় দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে অবৈধভাবে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে রাখা উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কক্ষ নং-৪০২ এ ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা হয়।

ডিসি ইবনে মিজান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্র গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতো বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে এই কঙ্কালগুলো ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনে পরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তারা যে কঙ্কাল বিক্রি করেন এটা তাদের ক্যাম্পাসের অনেকেই জানে। যখন কেউ কঙ্কাল কিনতে আসে বা অনলাইনে বুকিং দেয় তাদের নির্দিষ্ট সময় দেয় এবং তাদের কাছে কঙ্কাল বিক্রি করে। তাদের কাস্টমার হচ্ছে বেশির ভাগ মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরও অন্যান্য চক্র আছে যারা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। এই প্রসেসের সঙ্গে গ্রেপ্তার ৪ জনই যুক্ত। আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি লাশ কবরস্থ হওয়ার পর এরা অবজার্ভ করে। আর এক বছর পর এটা উত্তোলনের চেষ্টা করে। তবে যে কবরস্থানগুলো বেশি সুরক্ষিত সেখানে তারা কিন্তু এই কাজগুলো করতে পারে না। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কবরস্থান দেখা যায়, ১০-২০টি থেকে ৫০টি কবর থাকে, যেটা অরক্ষিত, পাহারাদার থাকে না, সিসি ক্যামেরা থাকে না, লোকজনের যাতায়াত কম, সেসব জায়গায় তারা টার্গেট করে। পরে তাদের যে এজেন্ট আছে অথবা তাদের যে লোক বলা আছে, তাদের দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে। সেটা কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রসেস করে তারপর তারা ফিটিং করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
৪৬০১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার

আপডেট সময় ০১:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড়সহ সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ, ফয়সাল আহম্মেদ। গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্র। গ্রেপ্তারের সময় ক্যাম্পাসের হোস্টেলের একটি রুম থেকে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ও বিভিন্ন ব্যাগ-বস্তা থেকে ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়। কঙ্কালগুলো তারা ক্রেতাদের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতো। মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া রাস্তার উপর অবৈধ উপায়ে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে। পরে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল অনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী একইদিন দুপুর অনুমানিক সাড়ে তিনটায় দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে অবৈধভাবে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে রাখা উত্তরা পশ্চিম থানাধীন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কক্ষ নং-৪০২ এ ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা হয়।

ডিসি ইবনে মিজান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্র গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতো বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে এই কঙ্কালগুলো ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনে পরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তারা যে কঙ্কাল বিক্রি করেন এটা তাদের ক্যাম্পাসের অনেকেই জানে। যখন কেউ কঙ্কাল কিনতে আসে বা অনলাইনে বুকিং দেয় তাদের নির্দিষ্ট সময় দেয় এবং তাদের কাছে কঙ্কাল বিক্রি করে। তাদের কাস্টমার হচ্ছে বেশির ভাগ মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরও অন্যান্য চক্র আছে যারা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। এই প্রসেসের সঙ্গে গ্রেপ্তার ৪ জনই যুক্ত। আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি লাশ কবরস্থ হওয়ার পর এরা অবজার্ভ করে। আর এক বছর পর এটা উত্তোলনের চেষ্টা করে। তবে যে কবরস্থানগুলো বেশি সুরক্ষিত সেখানে তারা কিন্তু এই কাজগুলো করতে পারে না। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কবরস্থান দেখা যায়, ১০-২০টি থেকে ৫০টি কবর থাকে, যেটা অরক্ষিত, পাহারাদার থাকে না, সিসি ক্যামেরা থাকে না, লোকজনের যাতায়াত কম, সেসব জায়গায় তারা টার্গেট করে। পরে তাদের যে এজেন্ট আছে অথবা তাদের যে লোক বলা আছে, তাদের দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে। সেটা কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রসেস করে তারপর তারা ফিটিং করে।