চরমোনাই পীরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাক্ষাতে তারেক রহমান অতীত রাজনৈতিক কালচার থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনীতির বার্তা দিয়েছেন। ঐক্যতার মধ্যদিয়ে সকলকে নিয়ে দেশ সুন্দরভাবে গড়ার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছেন। এ ছাড়া দেশ গঠনে ইসলামী আন্দোলনের আমীরের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। গতকাল রাতে ইসলামী আন্দোলনের আমীরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা জানান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চরমোনাই পীরের রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় যান তারেক রহমান। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, যে নতুন সরকার মঙ্গলবার গঠন হচ্ছে, এরমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসছিলেন। আমাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, আমরা কথা বলেছি। আমরা তাদেরকে মৌলিক কথাগুলো বলেছি যে, আমরা সবাই যেন একত্রিত হয়ে দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়তে পারি। এই বিষয়টাই তার সঙ্গে আমরা গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সঙ্গে কমিটমেন্ট করেছেন- তিনিও সকলকে নিয়ে দেশ সুন্দরভাবে গড়ার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে সবার সঙ্গে ঐক্যতা, সৌহার্দ্যতা সম্পর্ক তৈরি করে পরিচালনা করার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন এবং চেষ্টা করবেন। সেজন্য আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে।
এরআগে গাজী আতাউর রহমান বলেন, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন। তারেক রহমান একটি নজির স্থাপন করেছেন। তিনি অতীত রাজনৈতিক কালচার থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনীতির বার্তা দিয়েছেন। এটা আমরা মনে করি, আগামীতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বয়ে যাবে। আমরা মনে করি, তারেক রহমান নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছেন, এখানে যদিও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে। এই বিষয়টি আমরা বলেছি। যাতে এগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়।
তিনি বলেন, তারপরেও যেহেতু তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছেন, আগামীদিনে তিনি শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। আমরা মনে করি তিনি যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন- তিনি আমাদের চরমোনাই পীরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, আগামীদিনে দেশ গঠনে তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন। আমাদের নেতা চরমোনাই পীর সাহেব, তিনিও বলেছেন-আপনারা ভালো কাজ করলে আমরা অবশ্যই পাশে থাকবো। তবে যদি জনবিরোধী, দেশবিরোধী কোনো কাজ করেন এবং ইসলামবিরোধী কোনো উদ্যোগ নেন তাহলে কিন্তু আমরা যথাযথভাবে এর প্রতিবাদও করবো। তিনি তা স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করবে। তবে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করার আগে আমাদেরকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা বলেছি, আমরা একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা অবশ্যই গঠনমূলক রাজনীতি করবো। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারকে ভালো কাজের পরামর্শ দেবো। দেশবিরোধী, জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, যদি সেই সমাধানের পথে সরকার যেতে না চায় তাহলে অবশ্যই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করবো। আমরা আশা করবো, আগামী দিনে নতুন রাজনীতি হবে সৌহার্দ্যরে রাজনীতি, সম্প্রীতির রাজনীতি এবং ঐক্যের রাজনীতি, সংহতির রাজনীতি। বিগত দিনের মতো ধ্বংসের রাজনীতি, এটা আগামী দিনে হবে না। এটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, নির্বাচন পরবর্তী এবং নির্বাচন পূর্ববর্তী কিছু ঘটনা ঘটেছে। এখনো ঘটছে। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরে কঠোর হস্তে সব নিয়ন্ত্রণে নেবো। আমরা তার কথায় আশ্বস্ত হতে চাই।
এ সময় বিএনপি’র চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান চরমোনাই পীর। তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর ফয়জুল করীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর গত রোববার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।























