ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বুথফেরত সমীক্ষা ‘টাকা দিয়ে করানো’, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। Logo সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুই মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন। Logo রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করার দাবি নাহিদ ইসলামের Logo শত্রুপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে, নতুন অস্ত্র নিয়ে ইরানের বার্তা Logo ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শামীমা পারভীন শিল্পি Logo হরমুজে অবরোধ, পারস্য উপসাগরে আটকা ২০ হাজার নাবিক Logo চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত Logo উগান্ডায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান: বাংলাদেশিসহ ২৩১ বিদেশি আটক Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি রুমিন ফারহানার Logo বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪ উড়োজাহাজ ক্রয়ে চুক্তি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

দ্বিতীয় দিনেও শোকার্ত মানুষের ঢল

দাদির কবরের সামনে নিস্তব্ধ জাইমা রহমান: জিয়ার উদ্যানে তখন শোকাতুর পরিবেশ

নিজস্ব সংবাদ :

দাদির কবরে ফাতেহা পাঠ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় খালেদা জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। ছিলেন প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার। খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলাম তার স্বামী অধ্যাপক  আমিনুল ইসলামকে নিয়ে যান। আমিনুল  ইসলাম  যান হুইলচেয়ারে বসে। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে শাহরিন ইসলাম তুহিন ও তার স্ত্রী।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার ও তার পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারত করতে যান। ছিলেন খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও। শোকগ্রস্ত মনে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তারা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নাতনি জাইমা দাদির কবরের সামনে ফুলের তোড়া রেখে এবং নীরবে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন।  তখন কবর প্রাঙ্গণে নিস্তব্ধতা। এ সময় কবর প্রাঙ্গণে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যরা। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারতে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা হয়। নেতাকর্মীদের কাউকে ওই সময়ে কবর প্রাঙ্গণে যেতে দেয়া হয়নি। তারা কবর প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়। এ সময়ে নেতাকর্মীদের ঢল নামে খালেদা জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে। তারা বুকে কালোব্যাজ ধারণ করেন।

গত ৩০শে ডিসেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি ৭ দিনের শোক পালন করছে। দলের কার্যালয়গুলোকে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তালন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে শোকার্ত মানুষের ঢল
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার কবরে প্রতিদিনই শোকার্ত মানুষের ঢল বাড়ছে। দূর-দুরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন তার সমাধিস্থলে। কেউ কবর জিয়ারত করছেন, কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন, কেউ দোয়া-দুরুদ পড়ছেন। আবার কেউ নীরবে চোখের জল ফেলছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম জানাজা শেষে বুধবার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। পরদিন শুক্রবার সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার সমাধি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ওইদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে। গতকাল    ছুটির দিন হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ আসে শ্রদ্ধা জানাতে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও আসেন পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে। সকালের দিকে খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেন। ফজরের নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কবর জিয়ারত ও দোয়া পাঠের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। তবে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। জুমার নামাজের পর জিয়া উদ্যানে আসেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এসময় মির্জা আব্বাস বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শত অত্যাচার সহ্য করেও দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল, মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি সেই গণতন্ত্র দেখে যেতে পারলেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিগত সময়ে খালেদা জিয়াকে এমন কিছু করা হয়েছে, যাতে তিনি দ্রুত সময়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন। দুপুরে খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিকতা ও আন্দোলন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তার জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক ও গণতন্ত্রের মা। অনেকে বিদেশ চলে গিয়েছেন কিন্তু তিনি এই মাটি ছেড়ে যাননি।  বেলা ১১টার পর আসেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন। তুলি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু জাতীয়তাবাদী দলের নন, তিনি সারা বাংলাদেশের জনগণের নেত্রী। তার জানাজায় মানুষের যে রকম ঢল এবং কান্না দেখেছি, আমরা সেখান থেকে বুঝতে পেরেছি, এরকম নেত্রী আমরা বাংলাদেশে আর পাবো না।

সরজমিন জিয়া উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক থেকে জিয়াউর রহমানের মাজার পর্যন্ত সব জায়গা জুড়েই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ ছিলও দর্শনার্থী, নেতাকর্মী আর সমর্থকে পরিপূর্ণ।  জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, গতকাল পরিবার নিয়ে রাজধানীর অনেককেই ছুটে আসতে দেখা গেছে জিয়া উদ্যানে। এসেই প্রথমে তারা জিয়ার মাজারের আশপাশে ভিড় করছিলেন। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়ান, কেউ মোনাজাত করেন। শিশুদেরও দেখা গেছে ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাতে। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যানারে নেতাকর্মীরা এসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে যান।

অফিস খোলা থাকায় বৃহস্পতিবার কবর জিয়ারত করতে আসতে পারেননি ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিল হোসেন। তাই শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন কবর জিয়ারত করতে। তিনি বলেন, এত ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুবই ভদ্র ও শালীন ভাষায় কথা বলতেন। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার চলে যাওয়াতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা চাই তারেক রহমানও যেন কারও সঙ্গে আপস না করে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের সেবা করেন। লক্ষ্মীপুর দালাল বাজার ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি’র সভাপতি সোহেল বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) নির্দিষ্ট কোনো দলের নেত্রী ছিলেন না বাংলাদেশের নিপীড়িত সব দলের অভিভাবক ছিলেন। আজ  তার মৃত্যুতে পুরো দেশ স্তব্ধ, মর্মাহত, ব্যথিত এবং আমার বিশ্বাস দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষ আজ বেগম জিয়ার জন্য জান্নাত প্রার্থনা করছেন। ভোলার লালমোহন থেকে এসেছেন ৬২ বছর বয়সী আবুল কালাম। বৃহস্পতিবারও তিনি খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। শুক্রবারও এসেছেন। তিনি বলেন, নেত্রীর জানাজায় আসতে পারিনি। তাই কবর জিয়ারত করতে এসেছি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করতে এসেছি। এমন নেত্রী বাংলাদেশে আর হবে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
৪৬০৮ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

দ্বিতীয় দিনেও শোকার্ত মানুষের ঢল

দাদির কবরের সামনে নিস্তব্ধ জাইমা রহমান: জিয়ার উদ্যানে তখন শোকাতুর পরিবেশ

আপডেট সময় ০২:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

দাদির কবরে ফাতেহা পাঠ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় খালেদা জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। ছিলেন প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার। খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলাম তার স্বামী অধ্যাপক  আমিনুল ইসলামকে নিয়ে যান। আমিনুল  ইসলাম  যান হুইলচেয়ারে বসে। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে শাহরিন ইসলাম তুহিন ও তার স্ত্রী।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার ও তার পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারত করতে যান। ছিলেন খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও। শোকগ্রস্ত মনে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তারা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নাতনি জাইমা দাদির কবরের সামনে ফুলের তোড়া রেখে এবং নীরবে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন।  তখন কবর প্রাঙ্গণে নিস্তব্ধতা। এ সময় কবর প্রাঙ্গণে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যরা। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারতে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা হয়। নেতাকর্মীদের কাউকে ওই সময়ে কবর প্রাঙ্গণে যেতে দেয়া হয়নি। তারা কবর প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়। এ সময়ে নেতাকর্মীদের ঢল নামে খালেদা জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে। তারা বুকে কালোব্যাজ ধারণ করেন।

গত ৩০শে ডিসেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি ৭ দিনের শোক পালন করছে। দলের কার্যালয়গুলোকে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তালন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে শোকার্ত মানুষের ঢল
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার কবরে প্রতিদিনই শোকার্ত মানুষের ঢল বাড়ছে। দূর-দুরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন তার সমাধিস্থলে। কেউ কবর জিয়ারত করছেন, কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন, কেউ দোয়া-দুরুদ পড়ছেন। আবার কেউ নীরবে চোখের জল ফেলছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম জানাজা শেষে বুধবার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। পরদিন শুক্রবার সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার সমাধি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ওইদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে। গতকাল    ছুটির দিন হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ আসে শ্রদ্ধা জানাতে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও আসেন পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে। সকালের দিকে খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেন। ফজরের নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কবর জিয়ারত ও দোয়া পাঠের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। তবে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। জুমার নামাজের পর জিয়া উদ্যানে আসেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এসময় মির্জা আব্বাস বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শত অত্যাচার সহ্য করেও দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তার ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল, মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি সেই গণতন্ত্র দেখে যেতে পারলেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিগত সময়ে খালেদা জিয়াকে এমন কিছু করা হয়েছে, যাতে তিনি দ্রুত সময়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন। দুপুরে খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিকতা ও আন্দোলন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তার জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক ও গণতন্ত্রের মা। অনেকে বিদেশ চলে গিয়েছেন কিন্তু তিনি এই মাটি ছেড়ে যাননি।  বেলা ১১টার পর আসেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন। তুলি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু জাতীয়তাবাদী দলের নন, তিনি সারা বাংলাদেশের জনগণের নেত্রী। তার জানাজায় মানুষের যে রকম ঢল এবং কান্না দেখেছি, আমরা সেখান থেকে বুঝতে পেরেছি, এরকম নেত্রী আমরা বাংলাদেশে আর পাবো না।

সরজমিন জিয়া উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক থেকে জিয়াউর রহমানের মাজার পর্যন্ত সব জায়গা জুড়েই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ ছিলও দর্শনার্থী, নেতাকর্মী আর সমর্থকে পরিপূর্ণ।  জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, গতকাল পরিবার নিয়ে রাজধানীর অনেককেই ছুটে আসতে দেখা গেছে জিয়া উদ্যানে। এসেই প্রথমে তারা জিয়ার মাজারের আশপাশে ভিড় করছিলেন। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়ান, কেউ মোনাজাত করেন। শিশুদেরও দেখা গেছে ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাতে। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যানারে নেতাকর্মীরা এসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে যান।

অফিস খোলা থাকায় বৃহস্পতিবার কবর জিয়ারত করতে আসতে পারেননি ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিল হোসেন। তাই শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন কবর জিয়ারত করতে। তিনি বলেন, এত ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুবই ভদ্র ও শালীন ভাষায় কথা বলতেন। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার চলে যাওয়াতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা চাই তারেক রহমানও যেন কারও সঙ্গে আপস না করে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের সেবা করেন। লক্ষ্মীপুর দালাল বাজার ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি’র সভাপতি সোহেল বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) নির্দিষ্ট কোনো দলের নেত্রী ছিলেন না বাংলাদেশের নিপীড়িত সব দলের অভিভাবক ছিলেন। আজ  তার মৃত্যুতে পুরো দেশ স্তব্ধ, মর্মাহত, ব্যথিত এবং আমার বিশ্বাস দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষ আজ বেগম জিয়ার জন্য জান্নাত প্রার্থনা করছেন। ভোলার লালমোহন থেকে এসেছেন ৬২ বছর বয়সী আবুল কালাম। বৃহস্পতিবারও তিনি খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। শুক্রবারও এসেছেন। তিনি বলেন, নেত্রীর জানাজায় আসতে পারিনি। তাই কবর জিয়ারত করতে এসেছি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করতে এসেছি। এমন নেত্রী বাংলাদেশে আর হবে না।