ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা Logo ভারতীয় ‘পুশইন’-এর প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন, কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু Logo দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন, জারি হলো প্রজ্ঞাপন Logo ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান প্রধানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার Logo আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম Logo অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় স্বামীর এক দিনের রিমান্ড Logo চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে মৌজা রেট: অর্থমন্ত্রী

খুলশীতে কিশোরী শ্রাবন্তী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড: প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার: র‍্যাব-৭

নিজস্ব সংবাদ :

ভিকটিম শ্রাবন্তী ঘোষ (১২) সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ গ্রামের তপন ঘোষ ও রোজি ঘোষের মেয়ে। ভিকটিম পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী লালখান বাজার পানির ট্যাংকি এলাকায় প্রদীপ ঘোষের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো। ভিকটিমের বাবা ও মা গার্মেন্টসকর্মী হওয়ায় বাবা সপ্তাহে একদিন বাসায় আসে এবং মা প্রতিদিন দুপুরে গার্মেন্টেসে যায় এবং রাত আনুমানিক ০১০০ ঘটিকায় বাসায় আসেন। বাসায় ভিকটিম ও তার ছোট ভাই দুজনেই থাকে। ভিকটিমের ভাড়াবাসার পাশেই তার দাদার বাসা হওয়ায় মাঝে মাঝে দাদার বাসায় যায়। ভিকটিম গত ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখ আনুমানিক রাত ২১০০ ঘটিকায় ভিকটিম তার দাদার বাসা হতে কাউকে কিছু না বলে নিজেদের ভাড়াবাসায় চলে আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমের দাদা ভিকটিমকে খুঁজে না পেয়ে রাত আনুমানিক ২৩৫০ ঘটিকায় উক্ত ভাড়াবাসায় এসে দেখতে পায় ভিকটিম আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। পর্বতীতে ভিকটিমের মা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আশেপাশের লোকজনসহ স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ভিকটিমের পরিবার সন্দেহ করে মেয়েকে ধর্ষণ করার পর মৃত্যু ঘটানো হয়েছে এবং অপরাধ গোপন করার জন্য আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় পাশাপাশি সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ধর্ষণ পরীক্ষাও করানো হয়। উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা রোজি ঘোষ বাদী হয়ে প্রদিপ লাল ঘোষ ও অজয় সিংহ সহ অজ্ঞাত ২/৩ জনকে  আসামি করে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫, তারিখ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ইং, ধারাঃ- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/২৫) এর ৯(৩)। র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বর্ণিত মামলার এজাহার নামীয় পলাতক প্রধান আসামি প্রদীপ লাল ঘোষ ও অজয় সিংহ চট্টগ্রাম মহনগরীর খুলশী থানাথীন লালখান বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহনগরীর খুলশী থানাথীন লালখান বাজারস্থ ভান্ডারী মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত ০১। প্রদীপ লাল ঘোষ (৫২), পিতা-মৃতঃ মতি লাল ঘোষ, সাং-মতিঝর্ণা, থানা-খুলশী, জেলা-চট্টগ্রাম ০২। অজয় সিংহ (২৫), পিতা-স্বপন সিংহ, সাং-চা-বাগান, থানা-রাঙ্গুনিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম’দ্বয়কে ২৩ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাদেরকে চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
৪৬০০ বার পড়া হয়েছে

খুলশীতে কিশোরী শ্রাবন্তী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড: প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার: র‍্যাব-৭

আপডেট সময় ১২:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ভিকটিম শ্রাবন্তী ঘোষ (১২) সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ গ্রামের তপন ঘোষ ও রোজি ঘোষের মেয়ে। ভিকটিম পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী লালখান বাজার পানির ট্যাংকি এলাকায় প্রদীপ ঘোষের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো। ভিকটিমের বাবা ও মা গার্মেন্টসকর্মী হওয়ায় বাবা সপ্তাহে একদিন বাসায় আসে এবং মা প্রতিদিন দুপুরে গার্মেন্টেসে যায় এবং রাত আনুমানিক ০১০০ ঘটিকায় বাসায় আসেন। বাসায় ভিকটিম ও তার ছোট ভাই দুজনেই থাকে। ভিকটিমের ভাড়াবাসার পাশেই তার দাদার বাসা হওয়ায় মাঝে মাঝে দাদার বাসায় যায়। ভিকটিম গত ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখ আনুমানিক রাত ২১০০ ঘটিকায় ভিকটিম তার দাদার বাসা হতে কাউকে কিছু না বলে নিজেদের ভাড়াবাসায় চলে আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমের দাদা ভিকটিমকে খুঁজে না পেয়ে রাত আনুমানিক ২৩৫০ ঘটিকায় উক্ত ভাড়াবাসায় এসে দেখতে পায় ভিকটিম আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। পর্বতীতে ভিকটিমের মা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আশেপাশের লোকজনসহ স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ভিকটিমের পরিবার সন্দেহ করে মেয়েকে ধর্ষণ করার পর মৃত্যু ঘটানো হয়েছে এবং অপরাধ গোপন করার জন্য আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় পাশাপাশি সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ধর্ষণ পরীক্ষাও করানো হয়। উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা রোজি ঘোষ বাদী হয়ে প্রদিপ লাল ঘোষ ও অজয় সিংহ সহ অজ্ঞাত ২/৩ জনকে  আসামি করে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫, তারিখ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ইং, ধারাঃ- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/২৫) এর ৯(৩)। র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বর্ণিত মামলার এজাহার নামীয় পলাতক প্রধান আসামি প্রদীপ লাল ঘোষ ও অজয় সিংহ চট্টগ্রাম মহনগরীর খুলশী থানাথীন লালখান বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহনগরীর খুলশী থানাথীন লালখান বাজারস্থ ভান্ডারী মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত ০১। প্রদীপ লাল ঘোষ (৫২), পিতা-মৃতঃ মতি লাল ঘোষ, সাং-মতিঝর্ণা, থানা-খুলশী, জেলা-চট্টগ্রাম ০২। অজয় সিংহ (২৫), পিতা-স্বপন সিংহ, সাং-চা-বাগান, থানা-রাঙ্গুনিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম’দ্বয়কে ২৩ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাদেরকে চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।