ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত Logo বন্ধ হওয়া সব কারখানা দ্রুত চালু করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo বুথফেরত সমীক্ষা ‘টাকা দিয়ে করানো’, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। Logo সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুই মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন। Logo রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করার দাবি নাহিদ ইসলামের Logo শত্রুপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে, নতুন অস্ত্র নিয়ে ইরানের বার্তা Logo ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শামীমা পারভীন শিল্পি Logo হরমুজে অবরোধ, পারস্য উপসাগরে আটকা ২০ হাজার নাবিক Logo চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত Logo উগান্ডায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযান: বাংলাদেশিসহ ২৩১ বিদেশি আটক

গোদাগাড়ী থানার এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী
আ’ লীগ সাজিয়ে ঘুস দাবি করার অভিযোগ উঠেছে গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে। সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গিয়ে টাকা ছাড়া এক পাও নড়েন না এএসআই ফজলু। টাকা না দিলেই আ’ লীগের ট্যাগ লাগিয়ে গ্রেফতার বানিজ্য করার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। টাকা না থাকলে ৩০ ( ত্রিশ )  টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়েও জানান তারা। সেবা নয় টাকা ছাড়া কথা বলেন না এ পুলিশ কর্মকর্তা।
গোদাগাড়ী ১ নং ইউনিয়নের ক্ষুদ্র শেওলা গ্রামের বাদশা থানায় অভিযোগ করেন শফিকুলের বিরুদ্ধে। পরে উভয় পক্ষই মিমাংসা করতে সম্মত হয়। এএসআই ফজলু মিমাংসায় অংশগ্রহণ করে অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন। গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে শফিকুলের কাছে ২ হাজার টাকা নেন ফজলু। গত ১৬ নভেম্বর একই ইউনিয়নের রাতাহারী এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে আব্দুল খালেকের কাছে নেয় ২ হাজার টাকা। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ হাজার পাওনা টাকায় আদায় হয় ১৫ হাজার টাকা।এতে এএসআই ফজলু নেন ২ হাজার টাকা এবং বাদি আব্দুল খালেককে দেওয়া হয় ১৩ হাজার টাকা ।
চলতি বছরের ১৫ জুনে মারামারী ঘটনার জিডিকে কেন্দ্র আজাদ নামের এক ব্যক্তির কাছেও ১৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাতাহারী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আব্দুল খালেক বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে অভিযোগ দেওয়া হয় গোদাগাড়ী মডেল থানায়। তদন্তে আসেন এএসআই ফজলু। এসে তিনি ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে গেছেন। রাতাহারী দিঘিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সেলিম বাড়িতে বসে তালের রস পান করছিলেন। হঠাৎ ফজলু উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করেন। সেখানে রফাদফা করেন ১৫০০ টাকায়।
উপজেলার মিরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমান বলেন, ছাগলের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় অভিযোগ হয় চলতি বছরের জুনে। বাদির দায়েরকৃত অভিযোগ মিমাংসা করে নেন প্রথম কিস্তিতে ৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে নেন ৩ হাজার টাকা।
গোদাগাগাড়ী ইউনিয়নের জলাহার গ্রামের বাসিন্দা শারিফ উদ্দিন বলেন, এএসআই ফজলু আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চাই । আমি তাকে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সে আমাকে আ’ লীগ অপবাদ দিয়ে গ্রেফতারের হুমকি দেয়। বাড়িতে এসে টাকার কথা বলে। টাকা না দিলে আ’ লীগের মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেন ফজলু এএসআই। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ফজলু আমার বাড়িতে এসে বিরক্ত করছে।  তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমান। একই এলাকার জুলাই যোদ্ধা মুরসালিন ইসলাম বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে পুলিশের ঘুষ গ্রহন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ঘুষ দাবি করা লজ্জাজনক। আমি তাকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছি।তারপরও সে লজ্জাহীনভাবে ঘুষ গ্রহন করছে যা দেশ এবং জাতীকে কলংকিত করছে।আমি এএসআই ফজলুর অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করছি। এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বোষপাড়া, উপশহরসহ বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে মাসিক মাসোহারা উত্তোলন করতেন। জামায়াত বিএনপি দমনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিলো। অনেক জামায়াত বিএনপি’র সদস্যদের নিকট থেকেও টাকা নিতেন তিনি। এখন পূর্বের ন্যায় ভোল্ট পাল্টিয়ে আ’লীগ ট্যাগে চালাচ্ছেন বানিজ্য।
অভিযোগের বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হাসান বাশিরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কথা বললে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ভুক্তভোগীদের  লিখিত অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
৪৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

ধানের শীষে ভোট দিন

গোদাগাড়ী থানার এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
আ’ লীগ সাজিয়ে ঘুস দাবি করার অভিযোগ উঠেছে গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে। সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গিয়ে টাকা ছাড়া এক পাও নড়েন না এএসআই ফজলু। টাকা না দিলেই আ’ লীগের ট্যাগ লাগিয়ে গ্রেফতার বানিজ্য করার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। টাকা না থাকলে ৩০ ( ত্রিশ )  টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়েও জানান তারা। সেবা নয় টাকা ছাড়া কথা বলেন না এ পুলিশ কর্মকর্তা।
গোদাগাড়ী ১ নং ইউনিয়নের ক্ষুদ্র শেওলা গ্রামের বাদশা থানায় অভিযোগ করেন শফিকুলের বিরুদ্ধে। পরে উভয় পক্ষই মিমাংসা করতে সম্মত হয়। এএসআই ফজলু মিমাংসায় অংশগ্রহণ করে অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন। গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে শফিকুলের কাছে ২ হাজার টাকা নেন ফজলু। গত ১৬ নভেম্বর একই ইউনিয়নের রাতাহারী এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে আব্দুল খালেকের কাছে নেয় ২ হাজার টাকা। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ হাজার পাওনা টাকায় আদায় হয় ১৫ হাজার টাকা।এতে এএসআই ফজলু নেন ২ হাজার টাকা এবং বাদি আব্দুল খালেককে দেওয়া হয় ১৩ হাজার টাকা ।
চলতি বছরের ১৫ জুনে মারামারী ঘটনার জিডিকে কেন্দ্র আজাদ নামের এক ব্যক্তির কাছেও ১৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাতাহারী গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আব্দুল খালেক বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে অভিযোগ দেওয়া হয় গোদাগাড়ী মডেল থানায়। তদন্তে আসেন এএসআই ফজলু। এসে তিনি ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে গেছেন। রাতাহারী দিঘিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সেলিম বাড়িতে বসে তালের রস পান করছিলেন। হঠাৎ ফজলু উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করেন। সেখানে রফাদফা করেন ১৫০০ টাকায়।
উপজেলার মিরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমান বলেন, ছাগলের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় অভিযোগ হয় চলতি বছরের জুনে। বাদির দায়েরকৃত অভিযোগ মিমাংসা করে নেন প্রথম কিস্তিতে ৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে নেন ৩ হাজার টাকা।
গোদাগাগাড়ী ইউনিয়নের জলাহার গ্রামের বাসিন্দা শারিফ উদ্দিন বলেন, এএসআই ফজলু আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চাই । আমি তাকে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সে আমাকে আ’ লীগ অপবাদ দিয়ে গ্রেফতারের হুমকি দেয়। বাড়িতে এসে টাকার কথা বলে। টাকা না দিলে আ’ লীগের মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেন ফজলু এএসআই। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ফজলু আমার বাড়িতে এসে বিরক্ত করছে।  তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন গোদাগাড়ী মডেল থানার এএসআই ফজলুর রহমান। একই এলাকার জুলাই যোদ্ধা মুরসালিন ইসলাম বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে পুলিশের ঘুষ গ্রহন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ঘুষ দাবি করা লজ্জাজনক। আমি তাকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছি।তারপরও সে লজ্জাহীনভাবে ঘুষ গ্রহন করছে যা দেশ এবং জাতীকে কলংকিত করছে।আমি এএসআই ফজলুর অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করছি। এএসআই ফজলুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বোষপাড়া, উপশহরসহ বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে মাসিক মাসোহারা উত্তোলন করতেন। জামায়াত বিএনপি দমনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিলো। অনেক জামায়াত বিএনপি’র সদস্যদের নিকট থেকেও টাকা নিতেন তিনি। এখন পূর্বের ন্যায় ভোল্ট পাল্টিয়ে আ’লীগ ট্যাগে চালাচ্ছেন বানিজ্য।
অভিযোগের বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হাসান বাশিরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কথা বললে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ভুক্তভোগীদের  লিখিত অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।