ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; গ্রেপ্তার ২ Logo খুলশীতে যৌথ অভিযানে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার Logo দেশের সব জেলায় বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা Logo ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা চলছে: চিফ হুইপ Logo তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে সাংবাদিকের ওপর হামলা Logo বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা, বাড়ছে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিয়ে শঙ্কা Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চালু হবে ইলেকট্রিক ট্রেন Logo কক্সবাজারে ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য গ্রেপ্তার Logo চাঁদপুরে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের Logo জ্বালানিমন্ত্রীর সিরাজগঞ্জের বাড়িতে বজ্রপাতে আগুন

রাজনৈতিক আধিপত্যে রণক্ষেত্র বোয়ালমারী: বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

নিজস্ব সংবাদ :

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ৭ই নভেম্বর বিপ্লবী ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয় ভাঙচুরসহ আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আশপাশের ১০ থেকে ১২টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের এক ঘণ্টার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক, লাভলুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও দলীয় সুত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এছাড়া সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়ন ও উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই গ্রুপ পৃথক সমাবেশ ও র‌্যালীর আয়োজন করে।

সরজমিনে দেখা যায়, বোয়ালমারীর ওয়াবদা মোড়ে হারুন শফিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির আয়োজন করেন শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ। অপরদিকে চৌরাস্তা এলাকায় একই কর্মসূচির আয়োজন করে খন্দকার নাসির গ্রুপ। বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন বোয়ালমারী বাজারে জড়ো হচ্ছিলো। উভয় পক্ষের শত শত মানুষ যাওয়া আসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষের শত শত মানুষ লাঠিসোটা ইট পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বোয়ালমারী বাজারের ওয়াবদা এলাকায় শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু সমর্থিতদের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা আশেপাশের অন্তত ৮ থেকে ১০টি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তারা অন্তত ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘন্টা সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চলে। এ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন অনেকে এবং অন্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে সরে যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে এলে বিক্ষুব্ধদের মুখে পড়ে ফিরে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক ও নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, নাসির গ্রুপ সমর্থিত নেতাকর্মীরা বহিরাগত লোকজন এনে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের নেতাকর্মীর হামলা করে। এ সময় অফিস ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝুনু মিয়ার সমর্থকরা উস্কানি দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, হাসপাতালে ৭ জন আহত অবস্থায় আসেন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্তমানে পর্রিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এখনো কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এরকম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে ধারণা ছিল না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
৪৬৭৫ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক আধিপত্যে রণক্ষেত্র বোয়ালমারী: বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

আপডেট সময় ০১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ৭ই নভেম্বর বিপ্লবী ও সংহতি দিবসে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয় ভাঙচুরসহ আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আশপাশের ১০ থেকে ১২টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের ওয়াবদা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের এক ঘণ্টার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক, লাভলুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও দলীয় সুত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এছাড়া সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়ন ও উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই গ্রুপ পৃথক সমাবেশ ও র‌্যালীর আয়োজন করে।

সরজমিনে দেখা যায়, বোয়ালমারীর ওয়াবদা মোড়ে হারুন শফিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির আয়োজন করেন শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপ। অপরদিকে চৌরাস্তা এলাকায় একই কর্মসূচির আয়োজন করে খন্দকার নাসির গ্রুপ। বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন বোয়ালমারী বাজারে জড়ো হচ্ছিলো। উভয় পক্ষের শত শত মানুষ যাওয়া আসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষের শত শত মানুষ লাঠিসোটা ইট পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বোয়ালমারী বাজারের ওয়াবদা এলাকায় শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু সমর্থিতদের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা আশেপাশের অন্তত ৮ থেকে ১০টি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তারা অন্তত ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘন্টা সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চলে। এ সময় ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন অনেকে এবং অন্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে সরে যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে এলে বিক্ষুব্ধদের মুখে পড়ে ফিরে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক ও নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, নাসির গ্রুপ সমর্থিত নেতাকর্মীরা বহিরাগত লোকজন এনে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের নেতাকর্মীর হামলা করে। এ সময় অফিস ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝুনু মিয়ার সমর্থকরা উস্কানি দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, হাসপাতালে ৭ জন আহত অবস্থায় আসেন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্তমানে পর্রিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এখনো কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এরকম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে ধারণা ছিল না।