ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী

নিজস্ব সংবাদ :

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশে ফোন করেন। পরে পুলিশ তার বাসায় গিয়ে ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতদের পরিচয় গোপন রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে তিনটি হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল “চরম মানসিক বিপর্যস্ত” অবস্থায় রয়েছেন।

তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা— সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জনের দায়িত্বে ছিলেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে পরিবারটি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট Michelle Moroney ঘটনাস্থলকে “অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বাসা থেকে এমন কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করত। আরেক বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর সবসময়ই ভয়াবহ। কিন্তু যখন সেটা নিজের এলাকায় ঘটে, তখন তা মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়।”

এক নারী প্রতিবেশী নিজের বাগান থেকে ফুল এনে ঘটনাস্থলে রেখে যান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? তারা তো শিশু, একেবারে শিশু।”

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার Chris Minns ঘটনাটিকে “ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও শোকাহত, আমিও তেমনই।”

তিনি আরও জানান, আগামী জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত ‘অপারেশন অ্যামারক’ অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
৪৫২৯ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী

আপডেট সময় ০৭:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশে ফোন করেন। পরে পুলিশ তার বাসায় গিয়ে ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতদের পরিচয় গোপন রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে তিনটি হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল “চরম মানসিক বিপর্যস্ত” অবস্থায় রয়েছেন।

তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা— সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জনের দায়িত্বে ছিলেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে পরিবারটি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট Michelle Moroney ঘটনাস্থলকে “অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বাসা থেকে এমন কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করত। আরেক বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর সবসময়ই ভয়াবহ। কিন্তু যখন সেটা নিজের এলাকায় ঘটে, তখন তা মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়।”

এক নারী প্রতিবেশী নিজের বাগান থেকে ফুল এনে ঘটনাস্থলে রেখে যান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? তারা তো শিশু, একেবারে শিশু।”

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার Chris Minns ঘটনাটিকে “ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও শোকাহত, আমিও তেমনই।”

তিনি আরও জানান, আগামী জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত ‘অপারেশন অ্যামারক’ অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।