জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: মাহ্দী আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, বৃহস্পতিবার:
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হবে। শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনা নয়, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সংযোগ, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সামার সেমিস্টার ২০২৬-এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সততার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষ, কর্মবান্ধব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।”
অনুষ্ঠানে স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ১৮ শিক্ষার্থীকে শতভাগ মেধাবৃত্তি এবং মোট ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন হারে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বোর্ড সদস্য এম. এ. কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও ইয়াছমিন কামাল। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।
কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এনএসইউর রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ তাজমীন।
এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা নিজ নিজ স্কুলের কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। তাঁরা হলেন— স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার মিত্র এবং স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক একেএম ওয়ারেসুল করিম।
এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের যত্ন, শৃঙ্খলা ও সততার সঙ্গে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানে শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল, নৈতিক ও সহানুভূতিশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়।”
বোর্ড সদস্য এম. এ. কাশেম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বে এ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজের আগ্রহ দেখিয়েছে।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী হবে এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, তা দেশে রাখা সম্ভব হবে।
বোর্ড সদস্য বেনজীর আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নিজেকে আবিষ্কার এবং পৃথিবী পরিবর্তনের প্রস্তুতির সময়। ডিগ্রি একজনকে শিক্ষিত করতে পারে, কিন্তু চরিত্র ও সাহসই তাকে মহান করে তোলে।”
উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করে। এখানে স্বাধীন চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তুলতে উৎসাহ দেওয়া হয়।”
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এনএসইউএসএস) পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।