ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭ Logo এক দিনে তৃণমূলের নাম-প্রতীক হারানো, প্রার্থী প্রত্যাহার ও কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার Logo রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে থানায় নিল পুলিশ Logo রাজ্জাকের ২০১৬ সালের খসড়ায় স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী Logo ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা: বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে ভারত Logo গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ, গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১ Logo তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক Logo রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ Logo ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে যুক্ত হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি Logo সব জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ হত্যা: ময়নাতদন্তে উঠে এলো নৃশংসতার চিত্র

নিজস্ব সংবাদ :

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা–য় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শারমিন খানম, তাঁর ভাই রসুল মোল্লা এবং বড় দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে শারমিন খানমের দুই হাত ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, হত্যার আগে ভুক্তভোগীদের কোনো চেতনানাশক দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের পেটের ভেতরের খাবার, ঘটনাস্থলে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল, রান্না করা সেমাইসহ অন্যান্য আলামত পরীক্ষার জন্য সিআইডি–এর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা ফোরকান মোল্লা–কে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

এর আগে শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভবনটি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মজিবুর রহমানের মালিকানাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতরা গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে জীবিকার তাগিদে সেখানে বসবাস করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া মরদেহের পাশে একটি চিরকুট রেখে যান, যেখানে সবাইকে হত্যার কথা উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর লেখা স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্রও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
৪৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ হত্যা: ময়নাতদন্তে উঠে এলো নৃশংসতার চিত্র

আপডেট সময় ০৯:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা–য় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শারমিন খানম, তাঁর ভাই রসুল মোল্লা এবং বড় দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে শারমিন খানমের দুই হাত ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, হত্যার আগে ভুক্তভোগীদের কোনো চেতনানাশক দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের পেটের ভেতরের খাবার, ঘটনাস্থলে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল, রান্না করা সেমাইসহ অন্যান্য আলামত পরীক্ষার জন্য সিআইডি–এর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা ফোরকান মোল্লা–কে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

এর আগে শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভবনটি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মজিবুর রহমানের মালিকানাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতরা গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে জীবিকার তাগিদে সেখানে বসবাস করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া মরদেহের পাশে একটি চিরকুট রেখে যান, যেখানে সবাইকে হত্যার কথা উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর লেখা স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্রও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।