নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭
আহত ১ হাজার ৪৭৩, দূরের জেলায় ভেসে যাচ্ছে মরদেহ; শনাক্তকরণে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। আজ শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যার তীব্র স্রোতে অনেক মরদেহ ভেসে দূরের বিভিন্ন জেলায় চলে গেছে। এতে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এর আগে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ৫৩৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। পরে পুলিশের হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে পৌঁছায়।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজে বর্তমানে ৪ হাজার ৪৭৩ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা
এদিকে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)।
নেপালে সংস্থাটির প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, দেশটিতে নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
এক বিবৃতিতে আইএফআরসি জানিয়েছে, নেপালে জরুরি সহায়তার জন্য তারা আড়াই কোটি সুইস ফ্রাঁ অর্থায়নের আবেদন করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিশ্বজুড়ে থাকা নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো হচ্ছে।
দূরের জেলায় ভেসে গেছে মরদেহ
বুধবারের আকস্মিক বন্যায় তীব্র স্রোতে অনেক মরদেহ ভেসে দূরের বিভিন্ন জেলায় চলে গেছে। ফলে মরদেহ শনাক্ত করা ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চিতওয়ানে ২২১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১৩৪টি মরদেহ।
চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আরিয়াল বিবিসিকে জানিয়েছেন, অনেক মরদেহের অবস্থা ভালো নয়। ফলে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গেও মরদেহ রাখার জায়গা শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের জন্য আপাতত একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অব্যাহত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম
নেপালে বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
একদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করছে।
একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মরদেহ শনাক্ত, সংরক্ষণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

























