ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

অক্টোবরে নয়, নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অক্টোবরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক মাস পিছিয়ে নভেম্বরে এ নির্বাচন শুরু হতে পারে। এর আগে অক্টোবরের শেষভাগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন।

ইসি সূত্র বলছে, মূলত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের কারণেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন এক মাস পেছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী, ভোটের ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এটি আইনের বাধ্যবাধকতা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি এরই মধ্যে শূন্য হয়েছে। এ কারণে অক্টোবরের শেষে এ আসনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি আগে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছিল। এখনো সব প্রস্তুতি অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করা হবে। তবে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা নভেম্বর করা হচ্ছে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে সহায়ক মাস। এর সঙ্গে এপ্রিলও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পরীক্ষা বা বার্ষিক পরীক্ষা, বন্যার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল নিয়ে এখনো ইসিতে আলোচনা হয়নি। কমিশন কেবল ভোটের জন্য সহায়ক সময় নিয়ে আলোচনা করেছে। আইন অনুযায়ী ভোটের ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে নভেম্বরে ভোট হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে।

কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু করা হবে। একই সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। এরপর উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আচরণবিধি এসে গেছে। তবে নির্বাচনের বিধিমালার বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তা থাকায় তা পাঠানো হয়নি।

এর আগে গত ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। একই দিন নির্বাচন কমিশন তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। পরদিন ২১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এরপর সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতির সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনে ফাইল পাঠানো হয়।

দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব: ইসি সানাউল্লাহ

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দ্য অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি আয়োজিত সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সম্ভব।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কমিশন সহিংসতা চায় না। স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দায়িত্ব কমিশনের। শুধু মনোনয়ন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন না; স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

সানাউল্লাহ আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা থাকবে কমিশনের।

নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রাখতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সংসদের। সংসদ যে আইন করবে, নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক দলগুলো কী নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা আইনে নির্ধারিত আছে। কোনো দল সেই নিয়ম না মানলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সামনের নির্বাচনগুলো নির্ভুলভাবে আয়োজন করতে ইসির একটি অ্যাকশন প্ল্যান থাকা জরুরি। নির্বাচনী অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেশের ভেতর থেকে কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভালো থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ছিলেন না। ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা ও অনিরপেক্ষতা ছিল এবং গণনায় অনেক দেরি হয়েছে। এসব কারণে জামায়াত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ ছিল না।

সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। আয়োজক সংস্থা জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অন্য নির্বাচনের তুলনায় ভালো ছিল। তবে নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
৪৫৬২ বার পড়া হয়েছে

অক্টোবরে নয়, নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অক্টোবরে

আপডেট সময় ০৯:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক মাস পিছিয়ে নভেম্বরে এ নির্বাচন শুরু হতে পারে। এর আগে অক্টোবরের শেষভাগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন।

ইসি সূত্র বলছে, মূলত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের কারণেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন এক মাস পেছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী, ভোটের ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এটি আইনের বাধ্যবাধকতা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি এরই মধ্যে শূন্য হয়েছে। এ কারণে অক্টোবরের শেষে এ আসনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি আগে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছিল। এখনো সব প্রস্তুতি অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করা হবে। তবে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা নভেম্বর করা হচ্ছে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে সহায়ক মাস। এর সঙ্গে এপ্রিলও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পরীক্ষা বা বার্ষিক পরীক্ষা, বন্যার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল নিয়ে এখনো ইসিতে আলোচনা হয়নি। কমিশন কেবল ভোটের জন্য সহায়ক সময় নিয়ে আলোচনা করেছে। আইন অনুযায়ী ভোটের ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে নভেম্বরে ভোট হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে।

কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু করা হবে। একই সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। এরপর উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আচরণবিধি এসে গেছে। তবে নির্বাচনের বিধিমালার বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তা থাকায় তা পাঠানো হয়নি।

এর আগে গত ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। একই দিন নির্বাচন কমিশন তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। পরদিন ২১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এরপর সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতির সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনে ফাইল পাঠানো হয়।

দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব: ইসি সানাউল্লাহ

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দ্য অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি আয়োজিত সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সম্ভব।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কমিশন সহিংসতা চায় না। স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দায়িত্ব কমিশনের। শুধু মনোনয়ন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন না; স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

সানাউল্লাহ আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা থাকবে কমিশনের।

নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রাখতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সংসদের। সংসদ যে আইন করবে, নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক দলগুলো কী নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা আইনে নির্ধারিত আছে। কোনো দল সেই নিয়ম না মানলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সামনের নির্বাচনগুলো নির্ভুলভাবে আয়োজন করতে ইসির একটি অ্যাকশন প্ল্যান থাকা জরুরি। নির্বাচনী অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেশের ভেতর থেকে কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভালো থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ছিলেন না। ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা ও অনিরপেক্ষতা ছিল এবং গণনায় অনেক দেরি হয়েছে। এসব কারণে জামায়াত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ ছিল না।

সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। আয়োজক সংস্থা জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অন্য নির্বাচনের তুলনায় ভালো ছিল। তবে নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল।