ভারতীয় ‘পুশইন’-এর প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন, কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতীয় ‘পুশইন’-এর নামে সীমান্তে চলমান কার্যক্রমের প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এতে বক্তব্য দেন গণফ্রন্টের সভাপতি কমরেড টিপু বিশ্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, উপজাতিবিষয়ক সহ-সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সীমান্তজুড়ে ‘পুশইন’-এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, ভারত যেন অবিলম্বে ‘পুশইন’ কার্যক্রম বন্ধ করে এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সহযোগিতা করে। অন্যথায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই হওয়া উচিত, যাতে দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক বজায় থাকে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত জানান, কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান বলে জানা যায়। এ ঘটনায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।