চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, অবকাঠামো ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার চীনের কুনমিং-এ অবস্থিত কুনমিং মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ইউনান প্রদেশের গভর্নরের কাছে তিনি এ আহ্বান জানান বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে।
চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নরের আমন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরাম এবং দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশন-এ অংশ নিতে কুনমিং সফর করছেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেশের সেক্রেটারি ওয়াং নিং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে।
বৈঠকে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আবাসন, ভাষা সহায়তা, চিকিৎসা ব্যয় ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের কাছে কুনমিং আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
তিনি চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও নার্সসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশিদের জন্য কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বানও জানান।
এ সময় হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হি তাও, ওয়াং জিয়াংকুন এবং কুনমিং মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শিয়া সুয়েশানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা সহজ করার আশ্বাস দেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে চীনা নেতাদের শুভেচ্ছা জানান।
তিনি আরও জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী জুনের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাবেন, যা তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর হবে।
বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মোকতাদির চীনের কাছে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন আকতার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন, জেসমিন সুলতানা জুঁই, নাজল আলম, কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তা এবং ইউনান প্রাদেশিক সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।