ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান প্রধানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার Logo আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম Logo অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় স্বামীর এক দিনের রিমান্ড Logo চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে মৌজা রেট: অর্থমন্ত্রী Logo ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রণোদনা, ২০২৬-২৭ বাজেটকে স্বাগত ব্যবসায়ীদের Logo বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই বিতর্ক, তিন লাল কার্ড দেখিয়ে আলোচনায় রেফারি সাম্পাইয়ো Logo ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: গভর্নর Logo বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার বড় স্বস্তি, ফিট হয়ে অনুশীলনে ফিরলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকনির্দেশনা নেই, সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ নাহিদের

চট্টগ্রাম, প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বরাদ্দ পেলেও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কার্ড বিতরণ, খাল খননসহ নানা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংককে আবার কীভাবে এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একটি হাসপাতালকে তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।”

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পর যে অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা এ বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। যদিও কিছু পণ্যের কর হ্রাস এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, তবুও কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ। এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। ঋণখেলাপিদের অর্থ আদায়, অতীতে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি।”

তিনি বলেন, “এসব কারণেই বাজেট নিয়ে আমাদের সমালোচনা থাকবে। শনিবার ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে যাব।”

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, বাজেট নিয়ে তাদের নিজস্ব কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে। সরকার সেগুলো বিবেচনায় নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই মাসে ঘোষিত সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
৪৫০৬ বার পড়া হয়েছে

বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকনির্দেশনা নেই, সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ নাহিদের

আপডেট সময় ১০:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বরাদ্দ পেলেও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কার্ড বিতরণ, খাল খননসহ নানা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংককে আবার কীভাবে এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একটি হাসপাতালকে তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।”

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পর যে অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা এ বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। যদিও কিছু পণ্যের কর হ্রাস এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, তবুও কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ। এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। ঋণখেলাপিদের অর্থ আদায়, অতীতে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি।”

তিনি বলেন, “এসব কারণেই বাজেট নিয়ে আমাদের সমালোচনা থাকবে। শনিবার ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে যাব।”

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, বাজেট নিয়ে তাদের নিজস্ব কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে। সরকার সেগুলো বিবেচনায় নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই মাসে ঘোষিত সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।