ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

বেকার ভাতা নয়, আমরা কর্মসংস্থান দেবো: মেহেরপুরে ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার পর শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমরা অন্যায়ভাবে কারও বিরুদ্ধে একটি মামলাও করিনি। আমাদের দেয়া ৮টি মামলায় একজন করে আসামি করা হয়েছে, কারণ দ্বিতীয় কোনো দোষী ব্যক্তিকে আমরা খুঁজে পাইনি। অথচ কেউ কেউ হাজার হাজার মামলা দিয়ে ডায়ালগ শুরু করেছে। নাম ঢুকে গেছে, এখন নাম তুলতে হলে মাল-পানি লাগবে, এভাবেই শুরু হয়েছে মামলা বাণিজ্য। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে কিছু লোক। বিশেষ করে কুষ্টিয়ার চালকল ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ খাজনা আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চালের ট্রাকে প্রতি হান্ড্রেডে খাজনা, ট্রাকপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা নেয়ার খবর আমরা জানি। বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখলের খেলা চলছে। যারা এসব করছেন, ফিরে আসুন। মানুষ আপনাদের ঘৃণা করে, অভিশাপ দেয়। চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে দরদি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যিই যদি সংসারের অভাব-অনটনের কারণে এসব করেন, তাহলে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা আমরা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি। কারণ আমরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজদের বুক থেকে দূরে ঠেলে দেবো না, বরং তাদের বুকে টেনে নিয়ে ভালো কোনো কাজে যুক্ত করবো।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, এদেশের তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। শাসকরা ফাহাদ ও হাদিদের বিদায় করেছে, কিন্তু তাদের রক্তে আজ হাজারো বিপ্লবী তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর গুমের শিকার পরিবারগুলো সবচেয়ে বড় মজলুম। যে জাতি মায়েদের সম্মান করতে পারে না, তারা বিশ্বব্যাপী অপমানিত হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবার হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেয়া হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সব সেক্টরে পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সরকার কুষ্টিয়া চিনিকল পুনরায় চালু করবে। তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা আর পুরনো, বস্তাপচা রাজনীতি’ ফেরাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এত তালা কেনার টাকা নেই যে নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখবো। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মস্থল নিশ্চিত করবো। বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি থেকে ভিখারি পর্যন্ত সবার জন্য একই বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। নদী রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, পদ্মা-গড়াই এখন আর নদী নয়, মরুভূমি। এই নদী বাঁচানোর টাকা মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পেটে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় ছাত্রশি‌বি‌রের কে‌ন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবগাতুল্লাহ শিবগা, কু‌ষ্টিয়া-৩ (সদর) আস‌নের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমির হামজা, কু‌ষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কু‌ষ্টিয়া-২ আস‌নের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কু‌ষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হো‌সেন, জেলা জামায়া‌তের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন আহমেদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
মেহেরপুর: জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয় বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদার সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেহেরপুর ছোট জেলা, মাত্র তিনটি উপজেলা। মানুষ একে অপরকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় গেলে এই মানুষগুলোর দায়িত্ব আমরা নেবো। তাদের কাজ দেবো, যাতে চাঁদাবাজি করতে না হয়। নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন- হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ বিজয়ী হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ ভোট ডাকাতি করতে গেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্য আমাদের মায়া হয়। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেবো না। মানুষ ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কাকে ভোট দেবে। বেকার ভাতা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেবো না, রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেবো। তিনি আরও বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই যুব সমাজকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরের দুইটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কামনা করেন। নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ তাজ উদ্দীন আহমেদ খান। এ সময় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না, তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নারীদের অবর্ণনীয় ত্যাগের বর্ণনা করে বলেন, মা’য়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সেই মা’দের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে তাদের চোখ উপড়ে ফেলা হবে।

জামায়াত আমীর বলেন, যারা বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সস্তান, বোন ও পিতাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি। জবীনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাদের কি অপরাধ ছিল। তাদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধ একটাই অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোনো খোঁজ পাননি। তিনি বলেন, পকেট থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কী তা চান। আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সববেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন এই জনপদে সবথেকে বেশি খুন করা হয়েছে। সোহানের মা বলেছিলেন তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে কিন্তু তার চোখ দু’টি কেন তুলে নিলেÑ কী অপরাধ করেছিল আমার ছোট্ট সন্তান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৪৬০৫ বার পড়া হয়েছে

বেকার ভাতা নয়, আমরা কর্মসংস্থান দেবো: মেহেরপুরে ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ০২:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার পর শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমরা অন্যায়ভাবে কারও বিরুদ্ধে একটি মামলাও করিনি। আমাদের দেয়া ৮টি মামলায় একজন করে আসামি করা হয়েছে, কারণ দ্বিতীয় কোনো দোষী ব্যক্তিকে আমরা খুঁজে পাইনি। অথচ কেউ কেউ হাজার হাজার মামলা দিয়ে ডায়ালগ শুরু করেছে। নাম ঢুকে গেছে, এখন নাম তুলতে হলে মাল-পানি লাগবে, এভাবেই শুরু হয়েছে মামলা বাণিজ্য। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে কিছু লোক। বিশেষ করে কুষ্টিয়ার চালকল ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ খাজনা আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চালের ট্রাকে প্রতি হান্ড্রেডে খাজনা, ট্রাকপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা নেয়ার খবর আমরা জানি। বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখলের খেলা চলছে। যারা এসব করছেন, ফিরে আসুন। মানুষ আপনাদের ঘৃণা করে, অভিশাপ দেয়। চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে দরদি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যিই যদি সংসারের অভাব-অনটনের কারণে এসব করেন, তাহলে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা আমরা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি। কারণ আমরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজদের বুক থেকে দূরে ঠেলে দেবো না, বরং তাদের বুকে টেনে নিয়ে ভালো কোনো কাজে যুক্ত করবো।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, এদেশের তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। শাসকরা ফাহাদ ও হাদিদের বিদায় করেছে, কিন্তু তাদের রক্তে আজ হাজারো বিপ্লবী তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর গুমের শিকার পরিবারগুলো সবচেয়ে বড় মজলুম। যে জাতি মায়েদের সম্মান করতে পারে না, তারা বিশ্বব্যাপী অপমানিত হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবার হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেয়া হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সব সেক্টরে পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সরকার কুষ্টিয়া চিনিকল পুনরায় চালু করবে। তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা আর পুরনো, বস্তাপচা রাজনীতি’ ফেরাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এত তালা কেনার টাকা নেই যে নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখবো। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মস্থল নিশ্চিত করবো। বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি থেকে ভিখারি পর্যন্ত সবার জন্য একই বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। নদী রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, পদ্মা-গড়াই এখন আর নদী নয়, মরুভূমি। এই নদী বাঁচানোর টাকা মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পেটে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় ছাত্রশি‌বি‌রের কে‌ন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবগাতুল্লাহ শিবগা, কু‌ষ্টিয়া-৩ (সদর) আস‌নের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমির হামজা, কু‌ষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কু‌ষ্টিয়া-২ আস‌নের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কু‌ষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হো‌সেন, জেলা জামায়া‌তের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন আহমেদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
মেহেরপুর: জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয় বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদার সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেহেরপুর ছোট জেলা, মাত্র তিনটি উপজেলা। মানুষ একে অপরকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় গেলে এই মানুষগুলোর দায়িত্ব আমরা নেবো। তাদের কাজ দেবো, যাতে চাঁদাবাজি করতে না হয়। নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন- হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ বিজয়ী হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ ভোট ডাকাতি করতে গেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্য আমাদের মায়া হয়। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেবো না। মানুষ ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কাকে ভোট দেবে। বেকার ভাতা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেবো না, রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেবো। তিনি আরও বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই যুব সমাজকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরের দুইটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কামনা করেন। নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ তাজ উদ্দীন আহমেদ খান। এ সময় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না, তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নারীদের অবর্ণনীয় ত্যাগের বর্ণনা করে বলেন, মা’য়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সেই মা’দের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে তাদের চোখ উপড়ে ফেলা হবে।

জামায়াত আমীর বলেন, যারা বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সস্তান, বোন ও পিতাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি। জবীনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাদের কি অপরাধ ছিল। তাদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধ একটাই অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোনো খোঁজ পাননি। তিনি বলেন, পকেট থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কী তা চান। আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সববেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন এই জনপদে সবথেকে বেশি খুন করা হয়েছে। সোহানের মা বলেছিলেন তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে কিন্তু তার চোখ দু’টি কেন তুলে নিলেÑ কী অপরাধ করেছিল আমার ছোট্ট সন্তান।