বেকার ভাতা নয়, আমরা কর্মসংস্থান দেবো: মেহেরপুরে ডা. শফিকুর রহমান
কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার পর শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমরা অন্যায়ভাবে কারও বিরুদ্ধে একটি মামলাও করিনি। আমাদের দেয়া ৮টি মামলায় একজন করে আসামি করা হয়েছে, কারণ দ্বিতীয় কোনো দোষী ব্যক্তিকে আমরা খুঁজে পাইনি। অথচ কেউ কেউ হাজার হাজার মামলা দিয়ে ডায়ালগ শুরু করেছে। নাম ঢুকে গেছে, এখন নাম তুলতে হলে মাল-পানি লাগবে, এভাবেই শুরু হয়েছে মামলা বাণিজ্য। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে কিছু লোক। বিশেষ করে কুষ্টিয়ার চালকল ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ খাজনা আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চালের ট্রাকে প্রতি হান্ড্রেডে খাজনা, ট্রাকপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা নেয়ার খবর আমরা জানি। বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখলের খেলা চলছে। যারা এসব করছেন, ফিরে আসুন। মানুষ আপনাদের ঘৃণা করে, অভিশাপ দেয়। চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে দরদি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যিই যদি সংসারের অভাব-অনটনের কারণে এসব করেন, তাহলে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা আমরা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি। কারণ আমরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজদের বুক থেকে দূরে ঠেলে দেবো না, বরং তাদের বুকে টেনে নিয়ে ভালো কোনো কাজে যুক্ত করবো।
আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না, তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নারীদের অবর্ণনীয় ত্যাগের বর্ণনা করে বলেন, মা’য়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সেই মা’দের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে তাদের চোখ উপড়ে ফেলা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, যারা বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সস্তান, বোন ও পিতাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি। জবীনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাদের কি অপরাধ ছিল। তাদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধ একটাই অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোনো খোঁজ পাননি। তিনি বলেন, পকেট থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কী তা চান। আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সববেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন এই জনপদে সবথেকে বেশি খুন করা হয়েছে। সোহানের মা বলেছিলেন তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে কিন্তু তার চোখ দু’টি কেন তুলে নিলেÑ কী অপরাধ করেছিল আমার ছোট্ট সন্তান।














