ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি, আব্বাসীকে আইনি নোটিশ Logo ইরান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন ওবামা, ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ Logo নারায়ণগঞ্জে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশি হেফাজতে Logo ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৪৯ রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ৭ Logo জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে উত্তাল ইউরোপ, সংঘর্ষ-গ্রেপ্তার Logo ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাত্রা শুরু, বাড়ল ভ্রমণের সময় Logo পুরাতন রমনা থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ Logo সাইবার অপরাধ দমনে গঠন করা হলো স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিট Logo শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে মাইকিং, নওগাঁয় আ.লীগের দুই সহযোগী সংগঠনের নেতা গ্রেপ্তার

আল্ট্রাসনোগ্রাম- ডেলিভারির আগ মুহূর্তে /না? প্রেগনেন্সির শুরুতেই!!

নিজস্ব সংবাদ :

মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে সুস্মিতা- পিরিয়ড বন্ধ দুই মাস হয়ে গেছে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, এমনকি প্রেগনেন্সি টেস্টও পজেটিভ এসেছে। কিন্তু সে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে, বুঝতে পারছে না কখন ডাক্তারকে দেখাবে- শুরুতেই না ৫-৬ মাস পরে? এমন দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনেকের মাঝেই কাজ করে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে: প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ আসার পর থেকেই হবু মায়ের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তার নিজস্ব সুস্থতার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তার ওপর চলে আসে। তাই প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই মা হওয়ার প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাসে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন:
 ইকটপিক প্রেগনেন্সি (জরায়ুর বাইরে ভ্রƒণের অবস্থান),
 ব্লাইটেড ওভাম,
 মোলার প্রেগনেন্সি,
 মিসড এবরশন ইত্যাদি।
এ ছাড়া আরও নানা জটিলতা হতে পারে। তাই শুরু থেকেই যতটা সম্ভব সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পিরিয়ড মিস হওয়ার দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। সেই সঙ্গে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো খুবই প্রয়োজনীয়। অনেকের মনে হতে পারে, প্রেগনেন্সির শেষদিকে বা ডেলিভারির আগে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেই হবে। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। প্রথম তিন মাসে যদি সঠিক সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা না হয়, তবে নানা ধরনের জটিলতা নির্ণয় করা
কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাসের মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার মাধ্যমে যে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় তা হলো:

 গর্ভাবস্থা নিশ্চিতকরণ (কনসেপশন),
 গর্ভস্থ শিশুর অবস্থান (জরায়ুর মধ্যে ঠিকভাবে সংস্থাপিত হয়েছে কিনা),
 ভ্রƒণ ও হার্টবিটের উপস্থিতি,
 ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ।
এই সব তথ্য মায়ের এবং ভ্রƒণের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং,
প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই সঠিক সময়ে ডাক্তারকে দেখানো এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো অপরিহার্য। পিরিয়ড মিস হওয়ার দুই মাসের মধ্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও
আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে নিজের ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করুন।

লেখক
ডা. সাজেদা রুমানা আহমেদ
কনসালটেন্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড আল্ট্রাসাউন্ড স্পেশালিস্ট
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, কচুক্ষেত শাখা
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
৪৭৬৭ বার পড়া হয়েছে

আল্ট্রাসনোগ্রাম- ডেলিভারির আগ মুহূর্তে /না? প্রেগনেন্সির শুরুতেই!!

আপডেট সময় ০৫:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে সুস্মিতা- পিরিয়ড বন্ধ দুই মাস হয়ে গেছে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, এমনকি প্রেগনেন্সি টেস্টও পজেটিভ এসেছে। কিন্তু সে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে, বুঝতে পারছে না কখন ডাক্তারকে দেখাবে- শুরুতেই না ৫-৬ মাস পরে? এমন দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনেকের মাঝেই কাজ করে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে: প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ আসার পর থেকেই হবু মায়ের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তার নিজস্ব সুস্থতার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তার ওপর চলে আসে। তাই প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই মা হওয়ার প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাসে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন:
 ইকটপিক প্রেগনেন্সি (জরায়ুর বাইরে ভ্রƒণের অবস্থান),
 ব্লাইটেড ওভাম,
 মোলার প্রেগনেন্সি,
 মিসড এবরশন ইত্যাদি।
এ ছাড়া আরও নানা জটিলতা হতে পারে। তাই শুরু থেকেই যতটা সম্ভব সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পিরিয়ড মিস হওয়ার দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। সেই সঙ্গে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো খুবই প্রয়োজনীয়। অনেকের মনে হতে পারে, প্রেগনেন্সির শেষদিকে বা ডেলিভারির আগে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলেই হবে। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। প্রথম তিন মাসে যদি সঠিক সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা না হয়, তবে নানা ধরনের জটিলতা নির্ণয় করা
কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাসের মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার মাধ্যমে যে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় তা হলো:

 গর্ভাবস্থা নিশ্চিতকরণ (কনসেপশন),
 গর্ভস্থ শিশুর অবস্থান (জরায়ুর মধ্যে ঠিকভাবে সংস্থাপিত হয়েছে কিনা),
 ভ্রƒণ ও হার্টবিটের উপস্থিতি,
 ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ।
এই সব তথ্য মায়ের এবং ভ্রƒণের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং,
প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই সঠিক সময়ে ডাক্তারকে দেখানো এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো অপরিহার্য। পিরিয়ড মিস হওয়ার দুই মাসের মধ্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও
আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে নিজের ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করুন।

লেখক
ডা. সাজেদা রুমানা আহমেদ
কনসালটেন্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড আল্ট্রাসাউন্ড স্পেশালিস্ট
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, কচুক্ষেত শাখা
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯