ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

বিশ্ব মিডিয়ার খবর

“খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র: এশিয়ার বৃহত্তম বিদায়ের সাক্ষী বিশ্ব”

নিজস্ব সংবাদ :

শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো এশিয়ার সর্ববৃহৎ জানাজার দৃশ্য দেখেছে বিশ্ববাসী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় জনতার যে ঢল নামে তা বর্ণনা করতে গিয়ে এভাবেই বর্ণনা দিয়েছে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়া। বার্তা সংস্থা এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা, এপিসহ বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মিডিয়া খালেদা জিয়ার জানাজা ফলাও করে প্রচার করেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম  আল জাজিরার খবরে জানাজায় লাখ লাখ জনতার স্রোত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানের মিডিয়া জিওনিউজ তার সংবাদে বলেছে, খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী ঢাকায় শোকাতুর মানুষের স্রোত তৈরি হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র শিরোনাম- রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদায়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে বিশাল সংখ্যক জনসমাগম হয়েছে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করেছে। ৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে তিনিই প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন এই নেত্রীর সম্মানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ব্যাপক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রাজধানী ঢাকা। সেখানে কয়েক হাজার নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার মৃতদেহ বহনকারী গাড়িটি বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রংয়ে মোড়ানো ছিল। শারমিনা সিরাজ নামে এক শোকাতুর নারী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনুপ্রেরণা। তার মতে, অদূর ভবিষ্যতে নেতৃত্বের আসনে নারীদের দেখা পাওয়া কঠিন হবে। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী শারমিনা জানান, নারী শিক্ষার প্রসারে খালেদা জিয়ার চালু করা উপবৃত্তি কর্মসূচি আমাদের মেয়েদের জীবনে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। কাঁটাতারের বেষ্টনীর পেছন থেকে খালেদা জিয়ার মৃতদেহ বহনকারী কফিন যাওয়ার সময় মিনহাজ উদ্দিন নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, তিনি কখনো খালেদা জিয়াকে ভোট না দিলেও এই প্রবীণ নেত্রীকে সম্মান জানাতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার নাতিকে নিয়ে এসেছি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বিদায় জানাতে, যার অবদান সব সময় স্মরণে থাকবে।

আল জাজিরার শিরোনাম- খালেদার জানাজায় লাখ লাখ জনতার স্রোত। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী ঢাকায় বিশাল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। দেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সারা দেশ থেকে জানাজাস্থলে ছুটে এসেছেন শোকাতুর মানুষ। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের মানিক মিয়া এভিনিউ অভিমুখে শোকার্ত মানুষের ঢল। সেখানে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদার কফিনটি গার্ড অব অনার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গসহ লাখ লাখ মানুষ এই জানাজায় অংশ নিয়েছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সড়কে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে দায়িত্ব নেয়া খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন খ্যাত এই নেত্রীর শেষ বিদায়ে বিশ্বনেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সংসদ ভবনের সামনে থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তানভীর চৌধুরী জানান, জানাজায় জড়ো হওয়া বিশাল জনসমাগমের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। তিনি বলেন, অনেকে অঝোরে কেঁদেছেন। মানুষ সারা দেশ থেকে এখানে ছুটে এসেছেন। তারা বলছেন, তাদের আসতেই হতো। এটা বোঝাতে যে, জাতি তাকে কতোটা মিস করবে। তিনি আরও জানান যে, শোকাতুর মানুষজন তাকে দেশের এক মহান নেত্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি তাদের গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছেন।

এনডিটিভি’র শিরোনাম- খালেদা জিয়ার দাফন, জানাজায় উপস্থিত হন এস. জয়শঙ্কর। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘদিনের প্রধান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

জিওনিউজে’র শিরোনাম- রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদায়। এতে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী এক প্রভাবশালী নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত জানাজায় শোকাতুর মানুষের বিশাল ঢল নামে। ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন। তার সম্মানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং রাজধানীর ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। তার মৃতদেহ জাতীয় পতাকার রংয়ে সজ্জিত একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার আগে সংসদ ভবনের বাইরে এবং এর দিকে আসা রাস্তাগুলোতে শোকাতুর মানুষের সমুদ্র তৈরি হয়। অনেকে জাতীয় পতাকা এবং তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পতাকা নেড়ে শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় যোগ দিতে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (এনএ) স্পিকার আয়াজ সাদিকও ঢাকায় আসেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
৪৬৪১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব মিডিয়ার খবর

“খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র: এশিয়ার বৃহত্তম বিদায়ের সাক্ষী বিশ্ব”

আপডেট সময় ০১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো এশিয়ার সর্ববৃহৎ জানাজার দৃশ্য দেখেছে বিশ্ববাসী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় জনতার যে ঢল নামে তা বর্ণনা করতে গিয়ে এভাবেই বর্ণনা দিয়েছে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়া। বার্তা সংস্থা এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা, এপিসহ বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মিডিয়া খালেদা জিয়ার জানাজা ফলাও করে প্রচার করেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম  আল জাজিরার খবরে জানাজায় লাখ লাখ জনতার স্রোত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানের মিডিয়া জিওনিউজ তার সংবাদে বলেছে, খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী ঢাকায় শোকাতুর মানুষের স্রোত তৈরি হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র শিরোনাম- রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদায়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে বিশাল সংখ্যক জনসমাগম হয়েছে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করেছে। ৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে তিনিই প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন এই নেত্রীর সম্মানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ব্যাপক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রাজধানী ঢাকা। সেখানে কয়েক হাজার নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার মৃতদেহ বহনকারী গাড়িটি বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রংয়ে মোড়ানো ছিল। শারমিনা সিরাজ নামে এক শোকাতুর নারী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনুপ্রেরণা। তার মতে, অদূর ভবিষ্যতে নেতৃত্বের আসনে নারীদের দেখা পাওয়া কঠিন হবে। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী শারমিনা জানান, নারী শিক্ষার প্রসারে খালেদা জিয়ার চালু করা উপবৃত্তি কর্মসূচি আমাদের মেয়েদের জীবনে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। কাঁটাতারের বেষ্টনীর পেছন থেকে খালেদা জিয়ার মৃতদেহ বহনকারী কফিন যাওয়ার সময় মিনহাজ উদ্দিন নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, তিনি কখনো খালেদা জিয়াকে ভোট না দিলেও এই প্রবীণ নেত্রীকে সম্মান জানাতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার নাতিকে নিয়ে এসেছি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বিদায় জানাতে, যার অবদান সব সময় স্মরণে থাকবে।

আল জাজিরার শিরোনাম- খালেদার জানাজায় লাখ লাখ জনতার স্রোত। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী ঢাকায় বিশাল সংখ্যক মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। দেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সারা দেশ থেকে জানাজাস্থলে ছুটে এসেছেন শোকাতুর মানুষ। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের মানিক মিয়া এভিনিউ অভিমুখে শোকার্ত মানুষের ঢল। সেখানে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদার কফিনটি গার্ড অব অনার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গসহ লাখ লাখ মানুষ এই জানাজায় অংশ নিয়েছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সড়কে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে দায়িত্ব নেয়া খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন খ্যাত এই নেত্রীর শেষ বিদায়ে বিশ্বনেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সংসদ ভবনের সামনে থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তানভীর চৌধুরী জানান, জানাজায় জড়ো হওয়া বিশাল জনসমাগমের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। তিনি বলেন, অনেকে অঝোরে কেঁদেছেন। মানুষ সারা দেশ থেকে এখানে ছুটে এসেছেন। তারা বলছেন, তাদের আসতেই হতো। এটা বোঝাতে যে, জাতি তাকে কতোটা মিস করবে। তিনি আরও জানান যে, শোকাতুর মানুষজন তাকে দেশের এক মহান নেত্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি তাদের গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছেন।

এনডিটিভি’র শিরোনাম- খালেদা জিয়ার দাফন, জানাজায় উপস্থিত হন এস. জয়শঙ্কর। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘদিনের প্রধান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

জিওনিউজে’র শিরোনাম- রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদায়। এতে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী এক প্রভাবশালী নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত জানাজায় শোকাতুর মানুষের বিশাল ঢল নামে। ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন। তার সম্মানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং রাজধানীর ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। তার মৃতদেহ জাতীয় পতাকার রংয়ে সজ্জিত একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার আগে সংসদ ভবনের বাইরে এবং এর দিকে আসা রাস্তাগুলোতে শোকাতুর মানুষের সমুদ্র তৈরি হয়। অনেকে জাতীয় পতাকা এবং তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পতাকা নেড়ে শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় যোগ দিতে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (এনএ) স্পিকার আয়াজ সাদিকও ঢাকায় আসেন।