নোয়াখালীতে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা: র্যাব-৭
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হারুনুর রশিদকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে ফেনী জেলা সদরের শহীদ সেলিনা পারভীন এলাকা থেকে র্যাব-৭ এবং র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
নিহত আবু বকর ছিদ্দিক নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানাধীন গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তার আপন ছোট ভাই হারুনুর রশিদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জমিতে হাল চাষ দেওয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো ছেনী নিয়ে ভিকটিমের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আবু বকর ছিদ্দিকের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিমকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতেই (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ১১:২৫ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী সামছুন্নাহার গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০২) দায়ের করেন।
র্যাবের অভিযান ও গ্রেফতার
হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব আসামিদের গ্রেফতারে নজরদারি শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এবং র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ জানতে পারে যে, প্রধান আসামি হারুনুর রশিদ ফেনী সদর এলাকায় আত্মগোপন করে আছে।
অভিযানের তথ্য: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ৯:৩৫ মিনিটে ফেনী পৌরসভার ০৯নং ওয়ার্ডের শহীদ সেলিনা পারভীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হারুনুর রশিদকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




















