ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

মুগদায় প্রবাসীর মরদেহ টুকরো করার ঘটনায় প্রেমিকার জবানবন্দি

মোঃ মাসুম বিল্লাহ

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার মরদেহ আট টুকরো করে ফেলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিতি–এর খাস কামরায় তিনি জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার একই মামলায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম জবানবন্দি দেন।

তাসলিমা ও তাঁদের সহযোগী সন্দেহে গ্রেপ্তার আব্দুল মতিন দেওয়ান–কে আদালতে হাজির করে মুগদা থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই থানার এসআই এনামুল হক মিঠু তাসলিমার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ এবং আব্দুল মতিন দেওয়ানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মোকাররম মিয়া (৩৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ মে রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহের সাতটি খণ্ড উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পরে রোববার রাতে পুলিশ হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে তাসলিমা বলেছেন, তিনিও একজন প্রবাসীর স্ত্রী। প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় আসেন মোকাররম। তিনি সরাসরি হেলেনার মুগদার মান্ডা এলাকার ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে হেলেনা তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাসলিমাও আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল। এছাড়া মোকাররমের কাছে তাঁদের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছিল। বিয়ের প্রসঙ্গে মতবিরোধ হলে মোকাররম তাঁর দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেন।

এরপর তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে এবং হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরো করা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাসার আশপাশে ফেলে দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৪৫৫১ বার পড়া হয়েছে

মুগদায় প্রবাসীর মরদেহ টুকরো করার ঘটনায় প্রেমিকার জবানবন্দি

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার মরদেহ আট টুকরো করে ফেলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিতি–এর খাস কামরায় তিনি জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার একই মামলায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম জবানবন্দি দেন।

তাসলিমা ও তাঁদের সহযোগী সন্দেহে গ্রেপ্তার আব্দুল মতিন দেওয়ান–কে আদালতে হাজির করে মুগদা থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই থানার এসআই এনামুল হক মিঠু তাসলিমার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ এবং আব্দুল মতিন দেওয়ানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মোকাররম মিয়া (৩৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ মে রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহের সাতটি খণ্ড উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পরে রোববার রাতে পুলিশ হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে তাসলিমা বলেছেন, তিনিও একজন প্রবাসীর স্ত্রী। প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় আসেন মোকাররম। তিনি সরাসরি হেলেনার মুগদার মান্ডা এলাকার ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে হেলেনা তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাসলিমাও আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল। এছাড়া মোকাররমের কাছে তাঁদের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছিল। বিয়ের প্রসঙ্গে মতবিরোধ হলে মোকাররম তাঁর দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেন।

এরপর তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে এবং হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরো করা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাসার আশপাশে ফেলে দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।