ডায়াবেটিসের লক্ষণ এবার পায়েও, সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
বর্তমানে অল্প বয়সেই অনেক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও জিনগত কারণকে এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। রক্তে ইনসুলিনের ঘাটতির কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলেই রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
তবে চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ পায়েও প্রকাশ পায়। এসব লক্ষণ অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— পায়ে ব্যথা, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন অনুভূতি, পা লাল হয়ে যাওয়া কিংবা অসাড় হয়ে পড়া। অনেক ক্ষেত্রে পায়ের ঘা বা ক্ষত দ্রুত শুকায় না। কারণ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে রক্তনালিগুলো ধীরে ধীরে সরু ও শক্ত হয়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়।
এছাড়া পায়ের নিচে বা বুড়ো আঙুলের নিচে ফোসকা, ঘা কিংবা আলসার দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পায়ের আকৃতিতেও পরিবর্তন আসে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পায়ের পাতা ভারী লাগা, হাঁটতে সমস্যা হওয়া, পায়ের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, গোড়ালি ফাটা, আঙুলের মাঝখানের চামড়া ফেটে যাওয়া কিংবা চামড়া ওঠাও ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। ত্বকের রঙ পরিবর্তন হওয়া এবং গোড়ালি বা পায়ে ফোলাভাবও এ রোগের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তে শর্করার পরীক্ষা করিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


























