বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানত শর্ত শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশি ফুটবল সমর্থকদের জন্য ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানতের শর্ত শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট থাকা ৫০টি দেশের সমর্থকদের জন্য এ জামানত শর্ত মওকুফ করা হবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামডার বলেন, “যেসব সমর্থক নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন, তাদের জন্য আমরা ভিসা বন্ড বা জামানত মওকুফ করছি।”
গত বছর চালু হওয়া এ বন্ড ব্যবস্থা মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপের খেলোয়াড় ও কোচরা আগেই এই জামানত শর্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তবে বুধবার পর্যন্ত সাধারণ দর্শকরা এ সুবিধার বাইরে ছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ১২ মাস মেয়াদি পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচি বৃহত্তর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির অংশ হিসেবে চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করা।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে দর্শনার্থীদের জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা জানায়, এই সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউজের সঙ্গে তাদের চলমান সহযোগিতার প্রতিফলন। ফিফার ভাষায়, লক্ষ্য হচ্ছে “একটি সফল, রেকর্ড গড়া এবং স্মরণীয় বৈশ্বিক আয়োজন” উপহার দেওয়া।
তবে ৫০টি দেশের সমর্থকদের জন্য শর্ত শিথিল করা হলেও ইরান ও হাইতির নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। যদিও বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট সফরের ক্ষেত্রে ওই দুই দেশের খেলোয়াড় ও কোচরা ছাড় পাবেন।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী আইভরি কোস্ট ও সেনেগালের ভ্রমণকারীরা সম্প্রসারিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আংশিক বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারেন।
এ ছাড়া গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, অনেক দেশের পর্যটকদের প্রবেশের শর্ত হিসেবে গত পাঁচ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের তথ্য জমা দিতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দর্শকদের ওপরও এই নীতির প্রভাব পড়তে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের নীতির কারণে ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, গ্রেফতারের ঝুঁকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারি, বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং এবং বাড়তি পর্যবেক্ষণের মুখোমুখি হতে পারেন।