ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭ Logo এক দিনে তৃণমূলের নাম-প্রতীক হারানো, প্রার্থী প্রত্যাহার ও কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার Logo রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে থানায় নিল পুলিশ Logo রাজ্জাকের ২০১৬ সালের খসড়ায় স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী Logo ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা: বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে ভারত Logo গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ, গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১ Logo তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক Logo রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ Logo ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে যুক্ত হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি Logo সব জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

নিজস্ব সংবাদ :

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন High Court Division of the Supreme Court of Bangladesh। বিচারপতি Naima Haider ও বিচারপতি Kazi Zinat Hoque–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষিতে Directorate General of Health Services–কে আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে আদালত উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী Ishrat Hasan গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে রিট আবেদন দায়ের করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন Tanzila Rahman। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল Amit Das Gupta

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:২১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
৪৫৮১ বার পড়া হয়েছে

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

আপডেট সময় ০৭:২১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন High Court Division of the Supreme Court of Bangladesh। বিচারপতি Naima Haider ও বিচারপতি Kazi Zinat Hoque–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষিতে Directorate General of Health Services–কে আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে আদালত উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী Ishrat Hasan গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে রিট আবেদন দায়ের করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন Tanzila Rahman। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল Amit Das Gupta