রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করার দাবি নাহিদ ইসলামের
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কিংবা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিনি, পড়িওনি। আমরা শুরু থেকেই তার বক্তব্য এবং তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ—দুটিই প্রত্যাখ্যান করেছি।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির পূর্ববর্তী দায়িত্বকাল নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালে তাকে নির্দিষ্ট কিছু “এসাইনমেন্ট” দেওয়া হয়েছিল।
তার দাবি অনুযায়ী, এসবের মধ্যে ছিল—
- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা,
- পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্তি দেওয়া,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়ে ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায় আরোপ করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়া তিনি “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে “ফ্যাসিবাদের সহযোগী” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি উঠলেও তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সংসদে দেওয়া এসব বক্তব্য নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত ও দলীয় অবস্থান প্রতিফলিত করে। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে এমন কঠোর সমালোচনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি ভবিষ্যতে কীভাবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।






















