ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

রাজশাহীতে পুকুর উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী
রাজশাহী মহানগরীর পঞ্চবটি আহমপুর এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেয়ে তা উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। কয়েকদিন ধরে কৌশলে ধীরগতিতে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে পুকুরের সিংহভাগ অংশ মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হলেও মঙ্গলবার সকালে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে পুকুর ভরাটে জড়িতরা আগেই সরে পড়ে। বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন এবং বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুকুরটির মালিকানা রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনের। তবে ভরাটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন মালিকপক্ষের ৭ থেকে ৮ জন। এদের মধ্যে আনার, আরিফ, চঞ্চল, সুমন, চন্দন ও তারা উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুকুরটি প্রায় এক বছর ধরে ধীরে ধীরে ভরাট করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। কিন্তু সতর্কতা উপেক্ষা করায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো অবস্থাতেই পুকুর ভরাট করা যাবে না। আইন অনুযায়ী পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই পুনঃখননের সব ব্যয় পুকুর ভরাটকারীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। ভবিষ্যতে রাজশাহীতে কোনো পুকুর ভরাটের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, পুকুর পুনঃখনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভরাট করা পুকুর পুনরুদ্ধার করাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম যে পাশের একটি ভবন ভেঙে তার ইট ও খোয়া ব্যবহার করে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার স্যারকেও জানানো হয়। তার নির্দেশেই আমরা পুকুরটি পুনরায় খননের উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এটি ভরাট করতে না পারে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
৪৬৬৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে পুকুর উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান

আপডেট সময় ১২:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীর পঞ্চবটি আহমপুর এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেয়ে তা উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। কয়েকদিন ধরে কৌশলে ধীরগতিতে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে পুকুরের সিংহভাগ অংশ মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হলেও মঙ্গলবার সকালে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে পুকুর ভরাটে জড়িতরা আগেই সরে পড়ে। বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন এবং বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুকুরটির মালিকানা রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনের। তবে ভরাটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন মালিকপক্ষের ৭ থেকে ৮ জন। এদের মধ্যে আনার, আরিফ, চঞ্চল, সুমন, চন্দন ও তারা উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুকুরটি প্রায় এক বছর ধরে ধীরে ধীরে ভরাট করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। কিন্তু সতর্কতা উপেক্ষা করায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো অবস্থাতেই পুকুর ভরাট করা যাবে না। আইন অনুযায়ী পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই পুনঃখননের সব ব্যয় পুকুর ভরাটকারীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। ভবিষ্যতে রাজশাহীতে কোনো পুকুর ভরাটের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, পুকুর পুনঃখনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভরাট করা পুকুর পুনরুদ্ধার করাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম যে পাশের একটি ভবন ভেঙে তার ইট ও খোয়া ব্যবহার করে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার স্যারকেও জানানো হয়। তার নির্দেশেই আমরা পুকুরটি পুনরায় খননের উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এটি ভরাট করতে না পারে।