ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত Logo নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রুল Logo যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তা সতর্কতা, মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান Logo রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৭২ জন গ্রেফতার, ৫৪ মামলা Logo পটুয়াখালীতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার পরিধি বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবগুলো উপযুক্ত মনে করলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।

আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ—সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করে যেসব বিষয় আরও সুসংহত করা প্রয়োজন বলে কমিশনের মনে হয়েছে, সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সব আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই সব স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

ইসি সচিব জানান, বর্তমান আইনে ব্যক্তিগত ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অযোগ্য ধরা হলেও নতুন প্রস্তাবে ঋণের গ্যারান্টার হয়েও খেলাপি হলে তাকেও অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিলখেলাপিদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও সেটি অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়েও কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসি সচিব আরও জানান, কমিশনের গৃহীত আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তবে তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো যায় কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক পর্যায়—কোন স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৪৫০৩ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে

আপডেট সময় ১০:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার পরিধি বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবগুলো উপযুক্ত মনে করলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।

আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ—সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করে যেসব বিষয় আরও সুসংহত করা প্রয়োজন বলে কমিশনের মনে হয়েছে, সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সব আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই সব স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

ইসি সচিব জানান, বর্তমান আইনে ব্যক্তিগত ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অযোগ্য ধরা হলেও নতুন প্রস্তাবে ঋণের গ্যারান্টার হয়েও খেলাপি হলে তাকেও অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিলখেলাপিদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও সেটি অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়েও কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসি সচিব আরও জানান, কমিশনের গৃহীত আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তবে তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো যায় কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক পর্যায়—কোন স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।