আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারিং বিতর্ক, ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোচনা
মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে নাটকীয় এই জয়ের আড়ালে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারিং ও ভিএআরের দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
ম্যাচের শুরুতে দুই অর্ধের শুরুতেই গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর। এরপর ৭৯ মিনিটে প্রথম গোল করে ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিট পর্যন্ত টানা তিন গোল করে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল।
তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে মিসরের করা একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করে দেন দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি। বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হলেও, ম্যাচের শেষদিকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে প্রায় একই ধরনের ট্যাকলের ঘটনায় মিসরের খেলোয়াড়দের আপত্তি উপেক্ষা করে খেলা চালিয়ে যেতে দেন তিনি। ওই ঘটনায় ভিএআরের সহায়তাও নেওয়া হয়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ম্যাচে মিসর ১০টি এবং আর্জেন্টিনা ১২টি ফাউল করে। মিসরের খেলোয়াড়রা চারটি হলুদ কার্ড দেখলেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড়কে সতর্ক করা হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষক রিও ফার্দিন্যান্ড রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বহু বছর ধরে ফুটবল দেখলেও এমন অসঙ্গতি হতাশাজনক। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ এলে দ্রুত বাঁশি বাজানো হলেও মিসরের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনায় খেলা চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি মার্ক হালসে বলেন, ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী গোল যাচাইয়ের সময় বিল্ডআপ পর্যায়ও পর্যালোচনা করা হয়। মিসরের বাতিল হওয়া গোলের ক্ষেত্রে যদি সেটিকে ফাউল ধরা হয়, তাহলে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে সালাহর ওপর হওয়া ট্যাকলও একইভাবে বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল। তার মতে, এখানেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা গেছে।
২০২২ বিশ্বকাপে ভিএআর রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরোও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, মিসরের গোলটি ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী বাতিল হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। বল দখলের পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের বল পুনরুদ্ধারের একাধিক সুযোগ ছিল। ফলে গোল বাতিল করা রেফারি ও ভিএআরের ভুল সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে কোচ হোসে মরিনহো মিসরের লড়াকু পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, মিসর পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে প্রতিটি মুহূর্তে চাপে রেখেছে। কিন্তু অনেক সময় ম্যাচের চিত্রনাট্য মাঠের বাইরে থেকেই লেখা থাকে।
তবে সব বিশ্লেষক রেফারির সমালোচনা করেননি। ইএসপিএনের বিশ্লেষক ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, মিসরের বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ম অনুযায়ীই বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, বিল্ডআপে ফাউল থাকায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ সঠিক ছিল। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগের ট্যাকলেও কোনো ফাউল হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, সালাহ তখন বলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না এবং ট্যাকলটি ফাউলের পর্যায়ে পড়েনি।


























