সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ বাজেটের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে এবং নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষের উপকার হবে।
শুক্রবার কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সফরসূচির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়, বরং সারাদেশের মানুষের জন্য প্রণীত বাজেট। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, দেশের উন্নয়ন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমবে। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের চাহিদা পূরণের বিষয়গুলোও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। রাজস্ব আয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
এদিকে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজকরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
সকালে কক্সবাজার পৌঁছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি যাতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী সফরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণের কর্মসূচি রয়েছে।
সফরের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত, নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা উদ্বোধন এবং চকরিয়ায় রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য প্রদান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সফর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে কক্সবাজারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও গতি পাবে এবং নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা আসবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরসূচির প্রতিটি স্থান ও অনুষ্ঠানস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।