শান্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-তুরস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৫ জুন: শান্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও তুরস্ক একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ উভয় দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ তুরস্ককে দেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তুরস্ক ২ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান।
হাকান ফিদান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সফল সমাপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে হাকান ফিদানের আমন্ত্রণে তুরস্ক সফর করেছিলেন খলিলুর রহমান। ঢাকায় বর্তমান সফরটি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফিরতি সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তিনি সরকারের নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামী শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।