র্যাবের নাম ও কাঠামো পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা
ঢাকা: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর কাঠামো ও নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, র্যাব আগের মতো থাকছে না এবং এর নামও পরিবর্তিত হতে পারে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, র্যাবকে আগে পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে একটি বিকল্প কাঠামো হিসেবে পরিচালনা করা হলেও এখন এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন আইনের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রম আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, “র্যাব বিলুপ্তির” যে দাবি উঠেছিল, সেই প্রেক্ষাপটে বাহিনীটির বর্তমান কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে এর নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর আগে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাহিনীটির জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন কাঠামোর অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাবকে পুনর্গঠন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, র্যাবের নাম পরিবর্তন বা নতুন কোনো এলিট ফোর্স গঠনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তিনি অতীত প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কিছু কর্মকর্তার কারণে পুরো বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ব্যক্তির দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
র্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে র্যাব বা এর বিকল্প কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবাধিকারসম্মতভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।



























