ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়া মূল চালিকা শক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-ইসরায়েল গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সাংবাদিকতায় ১৭ বছরে তৈরি জঞ্জাল দূর করাই সরকারের লক্ষ্য: পার্থ Logo শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের গভীর উদ্দেশ্য আছে: রিজভী Logo গুজব রোধে ফ্যাক্ট চেক প্রচারের আহ্বান প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর Logo গুলশানে নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল: ডিসি-ওসি প্রত্যাহার Logo ভাঙ্গায় প্রকাশ্যে গুলি: গুলশান থেকে দুই আসামি গ্রেপ্তার Logo ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে তিন প্রকল্প, ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি Logo ৭ মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহদী আমিন Logo মেট্রোরেলের লাইনে কাপড়, দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল, যেভাবে বাড়বে সওয়াব

মোঃ আজিজুর রহমান (সুমন)

ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস Dhul Hijjah। বিশেষ করে এই মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও ফজিলতপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বছরের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় এই দিনগুলোর আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে অধিক প্রিয়।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, বছরের শেষ দশ রাত যেমন শ্রেষ্ঠ রজনী হিসেবে পরিচিত, তেমনি জিলহজের প্রথম দশ দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিনসমূহ। একজন মুসলমান হজ পালন করুন বা না করুন, এই বরকতময় সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব অর্জন করতে পারেন।

বেশি বেশি জিকির করার তাগিদ

হজ পালনকারীরা এ সময় তালবিয়া পাঠ করেন। আর যারা হজে যাননি, তারা আল্লাহর জিকির, তাহলিল, তাকবির ও তাসবিহ বেশি বেশি পাঠ করতে পারেন।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ হয়।” — (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)

হাদিসে মহানবী Muhammad বলেছেন, “তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সজীব থাকে।” — (তিরমিজি)

দান-সদকার ফজিলত

এই দিনগুলোতে সাধ্যমতো দান-সদকা করাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ, খাদ্য, পোশাক কিংবা সেবামূলক কাজ—সব ধরনের দানই আল্লাহর কাছে প্রিয়।

কোরআনে বলা হয়েছে, “যারা আল্লাহর পথে দিনে ও রাতে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে প্রতিদান।” — (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৪)

আরাফার রোজার গুরুত্ব

জিলহজের ৯ তারিখ অর্থাৎ Day of Arafah-এর রোজা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিস অনুযায়ী, এই রোজা বিগত এক বছর ও আগামীর এক বছরের গুনাহের কাফফারা হতে পারে।

নফল ইবাদতে গুরুত্ব

সূর্যোদয়ের পর থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত দুই রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করাকে উত্তম আমল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করার প্রতিও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে আরাফার দিনে।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা। এতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।

হজ ও কোরবানির তাৎপর্য

জিলহজ মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো হজ। যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের জন্য হজ ফরজ। এছাড়া সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কোরবানির গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” — (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান

পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের এই দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে জানানো এবং ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়াকেও একটি মহৎ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, কেউ ভালো কাজের পথ দেখালে সে সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র জিলহজের এই মহিমান্বিত দিনগুলো ইবাদত, ত্যাগ, দোয়া ও মানবসেবার মাধ্যমে অতিবাহিত করলে একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
৪৫৭০ বার পড়া হয়েছে

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ১০ আমল, যেভাবে বাড়বে সওয়াব

আপডেট সময় ০৭:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস Dhul Hijjah। বিশেষ করে এই মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও ফজিলতপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বছরের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় এই দিনগুলোর আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে অধিক প্রিয়।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, বছরের শেষ দশ রাত যেমন শ্রেষ্ঠ রজনী হিসেবে পরিচিত, তেমনি জিলহজের প্রথম দশ দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিনসমূহ। একজন মুসলমান হজ পালন করুন বা না করুন, এই বরকতময় সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব অর্জন করতে পারেন।

বেশি বেশি জিকির করার তাগিদ

হজ পালনকারীরা এ সময় তালবিয়া পাঠ করেন। আর যারা হজে যাননি, তারা আল্লাহর জিকির, তাহলিল, তাকবির ও তাসবিহ বেশি বেশি পাঠ করতে পারেন।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ হয়।” — (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)

হাদিসে মহানবী Muhammad বলেছেন, “তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সজীব থাকে।” — (তিরমিজি)

দান-সদকার ফজিলত

এই দিনগুলোতে সাধ্যমতো দান-সদকা করাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ, খাদ্য, পোশাক কিংবা সেবামূলক কাজ—সব ধরনের দানই আল্লাহর কাছে প্রিয়।

কোরআনে বলা হয়েছে, “যারা আল্লাহর পথে দিনে ও রাতে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে প্রতিদান।” — (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৪)

আরাফার রোজার গুরুত্ব

জিলহজের ৯ তারিখ অর্থাৎ Day of Arafah-এর রোজা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিস অনুযায়ী, এই রোজা বিগত এক বছর ও আগামীর এক বছরের গুনাহের কাফফারা হতে পারে।

নফল ইবাদতে গুরুত্ব

সূর্যোদয়ের পর থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত দুই রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করাকে উত্তম আমল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করার প্রতিও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে আরাফার দিনে।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা। এতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।

হজ ও কোরবানির তাৎপর্য

জিলহজ মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো হজ। যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের জন্য হজ ফরজ। এছাড়া সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কোরবানির গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” — (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান

পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের এই দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে জানানো এবং ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়াকেও একটি মহৎ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, কেউ ভালো কাজের পথ দেখালে সে সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র জিলহজের এই মহিমান্বিত দিনগুলো ইবাদত, ত্যাগ, দোয়া ও মানবসেবার মাধ্যমে অতিবাহিত করলে একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।