বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগে উদ্বেগ ও নিন্দা জানাল ছাত্রশিবির
নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা প্রতিনিধি: দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, অ্যাকাডেমিক নিরপেক্ষতা ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক আনুগত্য ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, “বিগত চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো ছাত্র-জনতার পঙ্গুত্ব বরণের অন্যতম লক্ষ্য ছিল শিক্ষা খাতকে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৪ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তাদের অভিযোগ, নতুন ভিসি নিয়োগ কোনো মেধাভিত্তিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে হয়নি; বরং এটি রাজনৈতিক ও দলীয় তুষ্টির প্রতিফলন। তারা দাবি করেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক প্যানেল ‘সাদা দল’ ও ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’-এর পরিচিত মুখ বা সক্রিয় সংগঠক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগেও গত মার্চে ১১টি সিটি করপোরেশন, ৪২টি জেলা পরিষদ এবং সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ভিসির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চারিত্রিক স্খলনের অভিযোগ উঠে এসেছে। কারও বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যার মামলার অভিযোগ রয়েছে, আবার কারও শিক্ষাজীবনে কোনো প্রথম শ্রেণি না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
তারা আরও দাবি করেন, যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদেরও উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের ভিসি করা হয়েছে।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতের মতো বর্তমান সরকারও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করছে। তাদের মতে, এ ধরনের দলীয়করণ অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও গবেষণার আন্তর্জাতিক মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিতর্কিত ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, “ছাত্র-জনতার বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে কোনো অন্যায্য, অবৈধ ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সচেতন ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না।”
এছাড়া দেশের সচেতন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজকে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।