ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ Logo জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, ভুল হলে সংশোধন করব: ডা. শফিকুর রহমান Logo জনগণই সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন Logo মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আইইডি বোমা উদ্ধার, নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির বোমা স্কোয়াড Logo রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে বিচ্ছিন্ন Logo পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান মমতার, ‘প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব’ Logo মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতাদের আটক। Logo উত্তরার সিরাজ মার্কেটে পারিবারিক কলহে ৭ মাসের শিশুসন্তানকে আছড়ে হত্যা, মাদকাসক্ত বাবা গ্রেপ্তার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন অযোগ্যতার প্রস্তাব ইসির, আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে Logo বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

শেরেবাংলা ছিলেন সর্বভারতীয় রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা: প্রধানমন্ত্রী

মাসুম বিল্লাহ

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের একজন অবিসংবাদিত নেতা।

শেরেবাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তাকে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি ও অর্থনীতিতে শেরেবাংলার অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরেবাংলা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই প্রস্তাব আজও ইতিহাসবিদদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে তিনি কৃষকদের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশে পরিণত করতে সক্ষম হন।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে শেরেবাংলা কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরেবাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ২১ দফার প্রণেতা হিসেবেও পরিচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
৪৫৪৮ বার পড়া হয়েছে

শেরেবাংলা ছিলেন সর্বভারতীয় রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের একজন অবিসংবাদিত নেতা।

শেরেবাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তাকে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি ও অর্থনীতিতে শেরেবাংলার অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরেবাংলা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই প্রস্তাব আজও ইতিহাসবিদদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে তিনি কৃষকদের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশে পরিণত করতে সক্ষম হন।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে শেরেবাংলা কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরেবাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ২১ দফার প্রণেতা হিসেবেও পরিচিত।