ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা Logo ভারতীয় ‘পুশইন’-এর প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন, কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু Logo দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন, জারি হলো প্রজ্ঞাপন Logo ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান প্রধানকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার Logo আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম Logo অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যুর মামলায় স্বামীর এক দিনের রিমান্ড Logo চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে মৌজা রেট: অর্থমন্ত্রী

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি এখনো ডিপ কোমায়, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি

নিজস্ব সংবাদ :

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়

দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির অবস্থা অপরিবির্তত রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হতে পারে। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদির পাশে রয়েছেন তিনি। রোববার সকাল ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওসমান হাদি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসক ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। সেই সময় আগামীকাল সোমবার রাতে শেষ হবে।আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদি এখনো ডিপ কোমায় আগের অবস্থায় আছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে ইন্টারনাল রেসপন্স আছে।’ ওসমান হাদিকে তাঁর পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো উন্নতি হলেই নেওয়া হবে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ওসমান হাদিকে নেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তখন বলেছিলেন, একটি গুলি ওসমান হাদির কানের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁর প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করেন। সেদিন সন্ধ্যায় ওসমান হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন সেখানে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। তাঁর চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খালেদা জিয়া ও ওসমান হাদির খবরাখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অনেকে যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন।
লন্ডন প্রবাসী ভাইকে নিতে ঢাকায় আসা সিলেটের সোহেল আহমেদকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে দেখা যায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের খোঁজ নিতে এসেছি। আর বেগম খালেদা জিয়াও এই হাসপাতালে আছেন।’

দুজনকে নিয়ে উৎকণ্ঠিত সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী মানুষ। যারা দেশের ভালো চায় না, তারা তাঁকে মেরে ফেলতে চাইছে। একটা নিরীহ মানুষকে এভাবে মেরে ফেলতে চাওয়াটা খুব নৃশংসতা। এই ঘটনাকে মেনে নিতে পারছি না। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা। দেশে তাঁর প্রয়োজন এখনো অনেক। দুজনই এখন এই এভারকেয়ার হাসপাতালে। আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করি, তাঁরা যাতে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।’ জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে সরব। কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে তিনি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই তাঁকে গুলি করা হয়। ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের জন্য পতিত আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন তাঁর সমর্থকেরা। এই হামলাকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ওসমান হাদির ওপর সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনকে চিহ্নিত করা কথা জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারীর বিষয়ে তথ্য দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। যে মোটরসাইকেল হামলাকারীরা ব্যবহার করেছিল, তা শনাক্ত করে এর মালিককে আটকের কথাও পুলিশ জানিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:২৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
৪৬২৭ বার পড়া হয়েছে

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি এখনো ডিপ কোমায়, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০১:২৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির অবস্থা অপরিবির্তত রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হতে পারে। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদির পাশে রয়েছেন তিনি। রোববার সকাল ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওসমান হাদি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসক ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। সেই সময় আগামীকাল সোমবার রাতে শেষ হবে।আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদি এখনো ডিপ কোমায় আগের অবস্থায় আছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে ইন্টারনাল রেসপন্স আছে।’ ওসমান হাদিকে তাঁর পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো উন্নতি হলেই নেওয়া হবে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ওসমান হাদিকে নেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তখন বলেছিলেন, একটি গুলি ওসমান হাদির কানের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁর প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করেন। সেদিন সন্ধ্যায় ওসমান হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন সেখানে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। তাঁর চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খালেদা জিয়া ও ওসমান হাদির খবরাখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অনেকে যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন।
লন্ডন প্রবাসী ভাইকে নিতে ঢাকায় আসা সিলেটের সোহেল আহমেদকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে দেখা যায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের খোঁজ নিতে এসেছি। আর বেগম খালেদা জিয়াও এই হাসপাতালে আছেন।’

দুজনকে নিয়ে উৎকণ্ঠিত সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী মানুষ। যারা দেশের ভালো চায় না, তারা তাঁকে মেরে ফেলতে চাইছে। একটা নিরীহ মানুষকে এভাবে মেরে ফেলতে চাওয়াটা খুব নৃশংসতা। এই ঘটনাকে মেনে নিতে পারছি না। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মানসকন্যা। দেশে তাঁর প্রয়োজন এখনো অনেক। দুজনই এখন এই এভারকেয়ার হাসপাতালে। আমরা তাঁদের জন্য দোয়া করি, তাঁরা যাতে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।’ জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে সরব। কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে তিনি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই তাঁকে গুলি করা হয়। ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের জন্য পতিত আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন তাঁর সমর্থকেরা। এই হামলাকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ওসমান হাদির ওপর সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনকে চিহ্নিত করা কথা জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারীর বিষয়ে তথ্য দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। যে মোটরসাইকেল হামলাকারীরা ব্যবহার করেছিল, তা শনাক্ত করে এর মালিককে আটকের কথাও পুলিশ জানিয়েছে।