নেতানিয়াহুবিরোধীদের ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ দেখছেন লাপিদ
সরকার গঠনে ধৈর্য ধরার আহ্বান, আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও বি’ইয়াচাদ দলের প্রভাবশালী নেতা ইয়ার লাপিদ। একই সঙ্গে সরকার গঠনের প্রচেষ্টা চলাকালে জনসাধারণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই সংখ্যা বিরোধী জোটের পক্ষে দেখা যায়নি। নেতানিয়াহুর পক্ষেও তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
লাপিদ লেখেন, ‘গত মঙ্গলবার রাত ১০টায়, আমরা সবাই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম এবং একটি সংখ্যার অপেক্ষায় ছিলাম। ৬১। সেটি দেখা যায়নি। আমাদের জন্যও না, আর নিশ্চিতভাবেই তাঁর (নেতানিয়াহু) জন্যও না।’
নির্বাচনে আরব দলগুলোসহ নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির মোট ৬৭টি আসন পেয়েছে। তবে জোটের চারটি দলের মধ্যে ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিন দল ইয়াসার, বি’ইয়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের সঙ্গে জোট করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে তাঁর দল লিকুদ ২৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মতো স্পষ্ট কোনো পথ নেই এই জোটের সামনেও।
লাপিদ স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুবিরোধী জোট নির্বাচনে স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক জয় চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা অর্জন করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর জোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে লাপিদ বলেন, কট্টর ইহুদিবাদী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি এবং শাস পার্টির ছয়টি আসনসহ জোটটির মোট ৫৩টি আসন হয়েছে। তাঁর মতে, এটি নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের ধস। কারণ, এই ৫৩ আসনের মধ্যে ১৩টি এমন দলগুলোর, যারা নিজেদের অ-জায়নবাদী মনে করে।
লাপিদ লেখেন, ‘তাঁর কাছে মাত্র ৪০টি আসন বাকি থাকে। তিনি যাই করুন না কেন, তাঁর কাছে সরকার গঠনের কোনো উপায় নেই।’
বর্তমান পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের ৬৮টি আসন রয়েছে। সে তুলনায় এবারের নির্বাচনী ফলাফলকে জোটটির বড় রাজনৈতিক পতন হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা।
লাপিদ আরও লেখেন, ‘তাই আমরাই জিতেছি। এটি কোনো নকআউট ছিল না। এটি ছিল পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়। পয়েন্টও তো গণনা করা হয়। জয় তো জয়ই।’
বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা জানান, ইয়াসার প্রধান গাদি আইসেনকটের নেতৃত্বে তাঁদের জোট সরকার গঠনের জন্য সাধ্যের মধ্যে সব চেষ্টা করবে। তবে কাজটি কঠিন এবং সাফল্য নিশ্চিত নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।
জনগণের উদ্দেশে লাপিদ বলেন, ‘ইসরায়েলিদের কাছে চাওয়াটা কঠিন হলেও আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, ধৈর্য ধরুন।’
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রচারের সম্পূর্ণ বিপরীত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ক্যামেরার আড়ালে, ছোট ঘরে এবং ধীরে ধীরে সম্পন্ন হয়। জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকলেও পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান শুক্রবার আবারও বিরোধী দলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আরব দলগুলোর সম্মিলিত ১৯টি আসন উপেক্ষা করা হবে অগণতান্ত্রিক।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজে প্রকাশিত এক মতামত কলামে গোলান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ইসরায়েলে কোনো শর্তাধীন নাগরিক নেই। সাখনিন বা রাহাতে একজন আরব নাগরিক মঙ্গলবার যে ভোট দিয়েছেন, তেল আবিব বা সদেরোতে একজন ইহুদি নাগরিকের দেওয়া ভোটের মতোই তাঁর ভোটের মূল্য সমান।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তিনি সকালে তাঁর জন্য লড়াই করে আবার সন্ধ্যায় কেবল তাঁদের উৎপত্তি বা নামের কারণে হাজার হাজার নাগরিকের ভোট বাতিল করতে পারেন না।’
ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গোলানই একমাত্র নেতা, যিনি রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইয়াসারের গাদি আইসেনকট, বি’ইয়াচাদের নাফতালি বেনেট এবং ইসরায়েল বেইতেনুর আবিদগার লিবারম্যান শুরুতেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
নির্বাচনে গোলানের দল ডেমোক্র্যাটস পার্টি আটটি আসনে জয় পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি আইসেনকট, লাপিদ ও রাআমের প্রধান মনসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
























