তরুণদের মধ্যে বাড়ছে সাত ধরনের ক্যানসার, কারণ নিয়ে উদ্বেগ
যে বয়সে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখা, ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই বাড়ছে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা। এত দিন বয়স্কদের রোগ হিসেবে বেশি পরিচিত ক্যানসারের কয়েকটি ধরন এখন ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তবে কেন এই পরিবর্তন, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো খুঁজে পাননি গবেষকেরা।
ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সাত ধরনের ক্যানসারের ঘটনা বেড়েছে। এগুলো হলো স্তন, অন্ত্র, কিডনি, লিভার, অগ্ন্যাশয়, প্রোস্টেট ও জরায়ুর ক্যানসার।
সংস্থাটি ২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রবণতা শনাক্ত করেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ে ৫০ বছরের কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তের সংখ্যা ১৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪০ হয়েছে, যা চার গুণেরও বেশি।
তরুণদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যানসার বৃদ্ধির প্রবণতাও উদ্বেগজনক। নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি এক লাখে আক্রান্তের হার ৩ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩ হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪-এ। এ ছাড়া জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই কিডনি ক্যানসারের হার বেড়েছে। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হচ্ছে স্তন ক্যানসার। এ বয়সীদের মধ্যে রোগটির হার প্রতি এক লাখে ৪২ থেকে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৫ হয়েছে।
কেন বাড়ছে তরুণদের ক্যানসার?
এই প্রবণতা শুধু ইংল্যান্ডে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও কম বয়সীদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঘটনা বাড়ছে। তবে এর পেছনে ঠিক কোন বিষয়গুলো দায়ী, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
গবেষকদের মতে, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খাওয়া, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ এবং আঁশযুক্ত খাবারের ঘাটতিও কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর বাইরে পরিবেশদূষণ, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিকের উপাদান, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং অন্ত্রের অণুজীবের পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। এসব উপাদানের প্রভাব কীভাবে কাজ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষকদের মতে, ক্যানসার শনাক্তকরণ পদ্ধতির উন্নতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে রোগ শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে শুধু উন্নত শনাক্তকরণ পদ্ধতি দিয়ে সব ধরনের ক্যানসারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
তবে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারের ঘটনা বাড়লেও রোগটি এখনো প্রধানত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার তুলনামূলকভাবে বিরল। তাই এসব পরিসংখ্যানকে তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের মহামারি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর কারণ অনুসন্ধানে জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রভাব, টিউমারের জীববিজ্ঞান এবং অন্ত্রের অণুজীব বা মাইক্রোবায়োমের ভূমিকা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা।
























