ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে প্রথম ‘ইমোশনাল ডোনার’ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন বিএমইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এর মাধ্যমে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শনিবার সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপাচার্য। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিএমইউ। নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য ইমোশনাল ডোনারের আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পরই কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ডোনারের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক, দানের স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করে।

উপাচার্য বলেন, বিএমইউতে ইতোমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমও চলছে। ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির সক্ষমতা বাড়ছে। তবে কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। কিডনি দান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনেই হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেশে সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। এতে রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও কমানো সম্ভব হবে।

বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত এক রোগী গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা তাকে কিডনি দান করেন।

সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে রোগী চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রোগী ও তার স্বজনরা চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহমেদ, গ্রহীতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, ডোনার টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. শফিকুর রহমানসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫১১ বার পড়া হয়েছে

দেশে প্রথম ‘ইমোশনাল ডোনার’ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন বিএমইউতে

আপডেট সময় ০৭:৪৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এর মাধ্যমে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শনিবার সকালে বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপাচার্য। একই দিন সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিএমইউ। নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য ইমোশনাল ডোনারের আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পরই কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ডোনারের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক, দানের স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করে।

উপাচার্য বলেন, বিএমইউতে ইতোমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমও চলছে। ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির সক্ষমতা বাড়ছে। তবে কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। কিডনি দান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনেই হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেশে সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। এতে রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও কমানো সম্ভব হবে।

বিএমইউ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত এক রোগী গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা তাকে কিডনি দান করেন।

সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে শনিবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে রোগী চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রোগী ও তার স্বজনরা চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহমেদ, গ্রহীতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, ডোনার টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. শফিকুর রহমানসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।