ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ ১২ আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শেরেবাংলা নগর থানার একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্রে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিটিটিসি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক শুক্রবার তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন। নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা একত্রিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।

সিটিটিসি জানায়, আটক শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং কথিত উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১২ আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রিমান্ডে যাওয়া ১২ জন হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫১১ বার পড়া হয়েছে

তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলো

আপডেট সময় ০৭:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ ১২ আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শেরেবাংলা নগর থানার একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্রে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিটিটিসি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক শুক্রবার তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন। নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা একত্রিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।

সিটিটিসি জানায়, আটক শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং কথিত উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১২ আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রিমান্ডে যাওয়া ১২ জন হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ।