ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দিল্লিতে আটক আইনজীবীদের মুক্তির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির Logo দিল্লিতে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিজেপি নেতার দাদির মৃত্যু Logo এসএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা, ৩ মাসে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ বিবেচনা করছে সরকারঃ মাহদী আমিন Logo দিল্লিতে কেজরিওয়াল-মমতাসহ বহু নেতা আটক, বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা Logo খিলপাড়া মজুমদার বাড়ি: দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য, শিক্ষা ও জনকল্যাণের ইতিহাস Logo তরুণদের মধ্যে বাড়ছে সাত ধরনের ক্যানসার, কারণ নিয়ে উদ্বেগ Logo নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পরই আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র Logo কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: অটোরিকশাচালক সুমন চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার Logo মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo শ্রীপুরে বিকাশকর্মীকে গুলি করে আড়াই কোটি টাকা ছিনতাই

দিল্লিতে কেজরিওয়াল-মমতাসহ বহু নেতা আটক, বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে এসব আটকের ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কয়েকজন নেতাও রয়েছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ছয়জনকে তাঁর বাসভবনের বাইরে থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যরা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাঁদের একটি প্রিজন ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকেও আটক করেছে পুলিশ বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকে নামার পরই আটক করা হয়। পরে তাঁদের পৃথক তিনটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে নেহা বোরাকে আটকের খবর জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ ও তল্লাশি জোরদার করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়।

এনডিটিভির খবরে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের কয়েকটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে চলাচলের কথা থাকা ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সিজেপি জানিয়েছে, দলের নেতাদের আটক করা হলেও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

প্রসঙ্গত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন। তবে পুলিশ তাদের ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১২ বার পড়া হয়েছে

দিল্লিতে কেজরিওয়াল-মমতাসহ বহু নেতা আটক, বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

আপডেট সময় ০৫:০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে এসব আটকের ঘটনা ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কয়েকজন নেতাও রয়েছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ছয়জনকে তাঁর বাসভবনের বাইরে থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যরা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাঁদের একটি প্রিজন ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকেও আটক করেছে পুলিশ বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকে নামার পরই আটক করা হয়। পরে তাঁদের পৃথক তিনটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে নেহা বোরাকে আটকের খবর জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ ও তল্লাশি জোরদার করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়।

এনডিটিভির খবরে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের কয়েকটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে চলাচলের কথা থাকা ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সিজেপি জানিয়েছে, দলের নেতাদের আটক করা হলেও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

প্রসঙ্গত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন। তবে পুলিশ তাদের ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।