ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান, দুই দালালের কারাদণ্ড Logo তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনেও গণভোটের বিধান ফিরছে Logo ক্রীড়া কার্ডে স্বাস্থ্যসেবাসহ সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে ব্যবস্থা, গণমাধ্যমকে জানানোর আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৯৬ Logo মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে দিল্লি গেলেন ভারতের হাইকমিশনার Logo আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন মেসি Logo ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ভূপাতিতের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল Logo আদালত থেকে ফের পালালেন হত্যা মামলার আসামি Logo চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে খেলাধুলা

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে তার ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী মেসির বিদায় ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ।

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ছয় সপ্তাহ পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে তার আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য তখনও বলেছিলেন, মেসি চাইলে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তিই হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় দল ছাড়লেও ক্লাব ফুটবলে এখনই থামছেন না মেসি। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। চুক্তিটি প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হলেও মেসির ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের আগে তার ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা কম। শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে চুক্তি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর কী করবেন, তার একটি আভাস ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফুটবলের সঙ্গেই থাকার পাশাপাশি ক্লাব মালিকানা ও ব্যবসায় আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছেন মেসি।

সম্প্রতি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে কোচ নাকি ক্লাব মালিক—কোন ভূমিকাটি পছন্দ করবেন। মেসি মালিক হওয়ার পক্ষেই মত দেন। কোচের মতো প্রতি সপ্তাহে চাপের মধ্যে না থেকে তুলনামূলক আড়াল থেকে ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তে যুক্ত থাকার সুযোগই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

স্পেনে ইতোমধ্যে সেই পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনার উপকণ্ঠের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেলা গত এপ্রিল মেসির মালিকানায় এসেছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলডেন্সও ১ অক্টোবর স্প্যানিশ ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনের পর মেসিকে নতুন মালিক হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এলডেন্সে এখন মূল লক্ষ্য অবনমন এড়ানো। সে কারণে ভিয়ারিয়ালের সাবেক কোচ হাভি কালেয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেসি নিজে আপাতত কম্পিউটারে ক্লাবটির ম্যাচ নিয়মিত অনুসরণ করছেন। রিয়াল ওভিয়েদোকে ৪-১ গোলে হারানোর পর মালিক হিসেবে তার প্রথম বার্তা ছিল ইনস্টাগ্রামে ‘আউপা দেপোর্তিভো’ লেখা একটি পোস্ট।

মেসির নামের প্রভাবও দ্রুত দেখা গেছে। এলডেন্সের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় এক ডজন স্পনসর আগ্রহ দেখিয়েছে।

উরুগুয়েতেও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে ২০২৫ সালের মে মাসে দেপোর্তিভো এলএসএম প্রতিষ্ঠা করেন মেসি। প্রথম মৌসুমেই ক্লাবটি দেশটির তৃতীয় স্তরে উন্নীত হয়। একসময় আরও কয়েকটি ক্লাব নিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সেই উদ্যোগ আপাতত থেমে গেছে। মেসির মূল লক্ষ্য এখন এলডেন্সকে লা লিগায় প্রতিষ্ঠিত করা।

ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও ভবিষ্যৎ মালিকানার যোগসূত্র থাকছে। চুক্তির অংশ হিসেবে অবসরের পর ক্লাবটির কিছু শেয়ার পাওয়ার কথা রয়েছে তার। তবে নিজের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার পরিকল্পনা নেই মেসির। শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও তার ঘনিষ্ঠরা দেখছেন না। বরং ইউরোপ ও মায়ামিকেন্দ্রিক জীবনেই তার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে।

যুব ফুটবলেও বাড়ছে আগ্রহ

ক্লাব মালিকানার পাশাপাশি যুব ফুটবল নিয়েও মেসির আগ্রহ বাড়ছে। তার ছেলে যে ফুটবলে যুক্ত এবং মেসি কাপের ম্যাচগুলোতে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, সেটিও তার আগ্রহের প্রমাণ।

২০২৫ সালে আটটি দল নিয়ে শুরু হওয়া মেসি কাপের এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬টি অনূর্ধ্ব-১৬ দল। ২৫ অক্টোবর ফ্লোরিডায় ইন্টার মায়ামির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, আর্সেনাল ও ইউই কর্নেলাসহ বিভিন্ন ক্লাবের একাডেমি অংশ নিচ্ছে।

ফুটবলের বাইরে মেসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যও ক্রমেই বড় হচ্ছে। ফোর্বসের হিসাবে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে ফুটবল ও ব্যবসা থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার আজীবন চুক্তি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের অন্যতম বড় উদাহরণ।

মিম হোটেলসও মেসির ব্যবসার দৃশ্যমান অংশ। ইবিজা থেকে অ্যান্ডোরা পর্যন্ত ছয়টি বুটিক হোটেল রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া রোজারিওতে আবাসন প্রকল্প, কাতালোনিয়ায় ‘এল ক্লাব দে লা মিলানেসা’ রেস্তোরাঁ চেইন এবং স্ট্যানলির সঙ্গে মেট কালেকশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত আছেন তিনি।

মেসির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তার বাবা হোর্হে মেসি। আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে মারা যাওয়া হোর্হে শুরু থেকেই ছেলের ব্যবসায়িক বিষয়গুলো দেখভাল করেছেন। পরে টিভি প্রযোজনা, বিপণন, মিডিয়া ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন খাতে মেসির ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে।

মেসির ঘনিষ্ঠ একটি দল এসব ব্যবসা পরিচালনা করছে। তবে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে মেসির নিজের আগ্রহও বাড়ছে। গত নভেম্বরে মায়ামিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ব্যবসা তাকে আগ্রহী করে এবং তিনি এ বিষয়ে শিখতে চান।

সব মিলিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও মেসির ফুটবল-পরবর্তী জীবন যে ফুটবলের বাইরে যাচ্ছে না, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। খেলোয়াড় হিসেবে বিদায়ের পর ক্লাব মালিকানা, যুব ফুটবল ও ব্যবসার মাধ্যমে ফুটবলের সঙ্গেই আরও গভীরভাবে যুক্ত থাকার পথেই এগোচ্ছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৪৫১১ বার পড়া হয়েছে

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন মেসি

আপডেট সময় ০৮:১৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে তার ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী মেসির বিদায় ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ।

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ছয় সপ্তাহ পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে তার আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য তখনও বলেছিলেন, মেসি চাইলে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে এবার সেই অধ্যায়ের সমাপ্তিই হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় দল ছাড়লেও ক্লাব ফুটবলে এখনই থামছেন না মেসি। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। চুক্তিটি প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হলেও মেসির ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের আগে তার ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা কম। শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে চুক্তি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর কী করবেন, তার একটি আভাস ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফুটবলের সঙ্গেই থাকার পাশাপাশি ক্লাব মালিকানা ও ব্যবসায় আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছেন মেসি।

সম্প্রতি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে কোচ নাকি ক্লাব মালিক—কোন ভূমিকাটি পছন্দ করবেন। মেসি মালিক হওয়ার পক্ষেই মত দেন। কোচের মতো প্রতি সপ্তাহে চাপের মধ্যে না থেকে তুলনামূলক আড়াল থেকে ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তে যুক্ত থাকার সুযোগই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

স্পেনে ইতোমধ্যে সেই পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনার উপকণ্ঠের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেলা গত এপ্রিল মেসির মালিকানায় এসেছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলডেন্সও ১ অক্টোবর স্প্যানিশ ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনের পর মেসিকে নতুন মালিক হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এলডেন্সে এখন মূল লক্ষ্য অবনমন এড়ানো। সে কারণে ভিয়ারিয়ালের সাবেক কোচ হাভি কালেয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেসি নিজে আপাতত কম্পিউটারে ক্লাবটির ম্যাচ নিয়মিত অনুসরণ করছেন। রিয়াল ওভিয়েদোকে ৪-১ গোলে হারানোর পর মালিক হিসেবে তার প্রথম বার্তা ছিল ইনস্টাগ্রামে ‘আউপা দেপোর্তিভো’ লেখা একটি পোস্ট।

মেসির নামের প্রভাবও দ্রুত দেখা গেছে। এলডেন্সের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় এক ডজন স্পনসর আগ্রহ দেখিয়েছে।

উরুগুয়েতেও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে ২০২৫ সালের মে মাসে দেপোর্তিভো এলএসএম প্রতিষ্ঠা করেন মেসি। প্রথম মৌসুমেই ক্লাবটি দেশটির তৃতীয় স্তরে উন্নীত হয়। একসময় আরও কয়েকটি ক্লাব নিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সেই উদ্যোগ আপাতত থেমে গেছে। মেসির মূল লক্ষ্য এখন এলডেন্সকে লা লিগায় প্রতিষ্ঠিত করা।

ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও ভবিষ্যৎ মালিকানার যোগসূত্র থাকছে। চুক্তির অংশ হিসেবে অবসরের পর ক্লাবটির কিছু শেয়ার পাওয়ার কথা রয়েছে তার। তবে নিজের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার পরিকল্পনা নেই মেসির। শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও তার ঘনিষ্ঠরা দেখছেন না। বরং ইউরোপ ও মায়ামিকেন্দ্রিক জীবনেই তার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে।

যুব ফুটবলেও বাড়ছে আগ্রহ

ক্লাব মালিকানার পাশাপাশি যুব ফুটবল নিয়েও মেসির আগ্রহ বাড়ছে। তার ছেলে যে ফুটবলে যুক্ত এবং মেসি কাপের ম্যাচগুলোতে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, সেটিও তার আগ্রহের প্রমাণ।

২০২৫ সালে আটটি দল নিয়ে শুরু হওয়া মেসি কাপের এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬টি অনূর্ধ্ব-১৬ দল। ২৫ অক্টোবর ফ্লোরিডায় ইন্টার মায়ামির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, আর্সেনাল ও ইউই কর্নেলাসহ বিভিন্ন ক্লাবের একাডেমি অংশ নিচ্ছে।

ফুটবলের বাইরে মেসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যও ক্রমেই বড় হচ্ছে। ফোর্বসের হিসাবে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে ফুটবল ও ব্যবসা থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার আজীবন চুক্তি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের অন্যতম বড় উদাহরণ।

মিম হোটেলসও মেসির ব্যবসার দৃশ্যমান অংশ। ইবিজা থেকে অ্যান্ডোরা পর্যন্ত ছয়টি বুটিক হোটেল রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া রোজারিওতে আবাসন প্রকল্প, কাতালোনিয়ায় ‘এল ক্লাব দে লা মিলানেসা’ রেস্তোরাঁ চেইন এবং স্ট্যানলির সঙ্গে মেট কালেকশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত আছেন তিনি।

মেসির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তার বাবা হোর্হে মেসি। আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে মারা যাওয়া হোর্হে শুরু থেকেই ছেলের ব্যবসায়িক বিষয়গুলো দেখভাল করেছেন। পরে টিভি প্রযোজনা, বিপণন, মিডিয়া ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন খাতে মেসির ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে।

মেসির ঘনিষ্ঠ একটি দল এসব ব্যবসা পরিচালনা করছে। তবে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে মেসির নিজের আগ্রহও বাড়ছে। গত নভেম্বরে মায়ামিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ব্যবসা তাকে আগ্রহী করে এবং তিনি এ বিষয়ে শিখতে চান।

সব মিলিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও মেসির ফুটবল-পরবর্তী জীবন যে ফুটবলের বাইরে যাচ্ছে না, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। খেলোয়াড় হিসেবে বিদায়ের পর ক্লাব মালিকানা, যুব ফুটবল ও ব্যবসার মাধ্যমে ফুটবলের সঙ্গেই আরও গভীরভাবে যুক্ত থাকার পথেই এগোচ্ছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।