ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দিনে তৃণমূলের নাম-প্রতীক হারানো, প্রার্থী প্রত্যাহার ও কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুক্রবার দিনভর একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। দলীয় নাম ও প্রতীক হারানোর পর নতুন নাম-প্রতীকে নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত, নন্দীগ্রাম আসন থেকে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, এরপর কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই প্রার্থীর গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে দিনভর ছিল নানা রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই পক্ষের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করে কমিশন।

নতুন নাম-প্রতীকে দুই গোষ্ঠী

শুক্রবার দুপুরে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নির্বাচনে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খেলোয়াড়’ প্রতীক ব্যবহার করবে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’; তাদের প্রতীক ‘খাম’।

দুই গোষ্ঠীই শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নতুন নাম ও প্রতীকের জন্য পছন্দের তালিকা কমিশনে জমা দেয়। মমতা-শিবিরের পক্ষ থেকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ ও ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রতীকের জন্য চাওয়া হয় খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ব্যাট।

অন্যদিকে ঋতব্রত-শিবির ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্টবেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করে। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড চাওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষই ওই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

নন্দীগ্রাম থেকে মমতার প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো

নতুন নাম ও প্রতীক পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। শুক্রবার বিকেলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

নন্দীগ্রাম আসনে মমতা-শিবিরের প্রার্থী হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সঞ্চিতার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত-শিবির প্রার্থী করেছে মহম্মদ এতেশামুল হককে। বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সঞ্চিতা। ওই সাক্ষাতের পর থেকেই তার প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে তখন সঞ্চিতা জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু নন্দীগ্রামের সাবেক বিধায়ক ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই তিনি গিয়েছিলেন।

কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা মমতার

সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর শুক্রবার কলকাতায় নিজের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, নন্দীগ্রামে তার দল কোনো প্রার্থী দেবে না এবং কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে।

মমতা বলেন, ‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।’

রেজিনগর আসনে তার দল প্রার্থী দেবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মমতার সমর্থনের পরই কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার

মমতার কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি পুরোনো হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় মিলন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। শনিবার তাকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে মমতার ক্ষোভ

দলীয় নাম ও প্রতীক স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, উপনির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমার মাত্র এক দিন আগে দলীয় নাম ও প্রতীক স্থগিত করা হয়েছে।

মমতা বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তবুও আমরা মাথা নত করব না।’

তিনি আরও বলেন, ২৮ বছর ধরে ব্যবহৃত দলের প্রতীক এভাবে স্থগিত করা যায় না। দলের সাংগঠনিক নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঋতব্রতের বক্তব্য

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের তৃতীয় পছন্দের নাম এবং প্রথম পছন্দের ‘খাম’ প্রতীক অনুমোদন করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কোনো প্রশ্ন নেই বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, তাদের দলের নামের মধ্যে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে কোনো দলের মালিকানা থাকে না।

শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া

ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনে সব পক্ষের বক্তব্য শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।

অধীরের অভিযোগ

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার করার অর্থ, কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি।’ তার দাবি, প্রার্থীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিজেপি কংগ্রেসের প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

এদিকে ঋতব্রত-শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। দলটির নির্বাচনী প্রতীকও ‘খাম’। নন্দীগ্রামে আইএসএফ প্রার্থী থাকায় একই প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৪৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫১৪ বার পড়া হয়েছে

এক দিনে তৃণমূলের নাম-প্রতীক হারানো, প্রার্থী প্রত্যাহার ও কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১০:৪৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুক্রবার দিনভর একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। দলীয় নাম ও প্রতীক হারানোর পর নতুন নাম-প্রতীকে নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত, নন্দীগ্রাম আসন থেকে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, এরপর কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই প্রার্থীর গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে দিনভর ছিল নানা রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই পক্ষের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করে কমিশন।

নতুন নাম-প্রতীকে দুই গোষ্ঠী

শুক্রবার দুপুরে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নির্বাচনে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খেলোয়াড়’ প্রতীক ব্যবহার করবে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’; তাদের প্রতীক ‘খাম’।

দুই গোষ্ঠীই শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নতুন নাম ও প্রতীকের জন্য পছন্দের তালিকা কমিশনে জমা দেয়। মমতা-শিবিরের পক্ষ থেকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ ও ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রতীকের জন্য চাওয়া হয় খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ব্যাট।

অন্যদিকে ঋতব্রত-শিবির ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্টবেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করে। প্রতীক হিসেবে খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড চাওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষই ওই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

নন্দীগ্রাম থেকে মমতার প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো

নতুন নাম ও প্রতীক পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। শুক্রবার বিকেলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

নন্দীগ্রাম আসনে মমতা-শিবিরের প্রার্থী হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সঞ্চিতার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত-শিবির প্রার্থী করেছে মহম্মদ এতেশামুল হককে। বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সঞ্চিতা। ওই সাক্ষাতের পর থেকেই তার প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে তখন সঞ্চিতা জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু নন্দীগ্রামের সাবেক বিধায়ক ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই তিনি গিয়েছিলেন।

কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা মমতার

সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর শুক্রবার কলকাতায় নিজের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, নন্দীগ্রামে তার দল কোনো প্রার্থী দেবে না এবং কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে।

মমতা বলেন, ‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।’

রেজিনগর আসনে তার দল প্রার্থী দেবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মমতার সমর্থনের পরই কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেপ্তার

মমতার কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি পুরোনো হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় মিলন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। শনিবার তাকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে মমতার ক্ষোভ

দলীয় নাম ও প্রতীক স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, উপনির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমার মাত্র এক দিন আগে দলীয় নাম ও প্রতীক স্থগিত করা হয়েছে।

মমতা বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তবুও আমরা মাথা নত করব না।’

তিনি আরও বলেন, ২৮ বছর ধরে ব্যবহৃত দলের প্রতীক এভাবে স্থগিত করা যায় না। দলের সাংগঠনিক নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঋতব্রতের বক্তব্য

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের তৃতীয় পছন্দের নাম এবং প্রথম পছন্দের ‘খাম’ প্রতীক অনুমোদন করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কোনো প্রশ্ন নেই বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, তাদের দলের নামের মধ্যে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে কোনো দলের মালিকানা থাকে না।

শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া

ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনে সব পক্ষের বক্তব্য শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।

অধীরের অভিযোগ

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার করার অর্থ, কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি।’ তার দাবি, প্রার্থীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিজেপি কংগ্রেসের প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

এদিকে ঋতব্রত-শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। দলটির নির্বাচনী প্রতীকও ‘খাম’। নন্দীগ্রামে আইএসএফ প্রার্থী থাকায় একই প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।