ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাজেকে দুই আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র সংঘর্ষ, আতঙ্কে পর্যটক ও স্থানীয়রা Logo খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহরে ককটেল নিক্ষেপ, আতঙ্কে ছুটোছুটি Logo ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ৩০ কারখানায় ছুটি Logo হেমন্তে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে অসুস্থতার ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে মানতে হবে যেসব সতর্কতা Logo ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমল স্বর্ণের দাম Logo ৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি Logo এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ Logo তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দীপের চার দিনের রিমান্ড Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ, এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার কোহাট পুলিশ লাইনে এ হামলা হয়। জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি সংবাদমাধ্যম ডনকে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনের একটি ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। পরে আরও কয়েকজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সাতজন হামলাকারী পুলিশ লাইনে ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) জানিয়েছে, হামলার পর অতিরিক্ত আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেন এবং সদস্যদের নেতৃত্ব দেন।

হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। আইজি জুলফিকার হামিদ বলেছেন, হামলাকারীদের পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হামলার ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গভীরভাবে দুঃখজনক।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জারদারি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরণের প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।

কোহাট পুলিশ লাইনে এর আগেও বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫৫২ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনে গাড়িবোমা হামলা, নিহত ২৭

আপডেট সময় ১১:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার কোহাট পুলিশ লাইনে এ হামলা হয়। জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি সংবাদমাধ্যম ডনকে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনের একটি ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। পরে আরও কয়েকজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সাতজন হামলাকারী পুলিশ লাইনে ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) জানিয়েছে, হামলার পর অতিরিক্ত আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেন এবং সদস্যদের নেতৃত্ব দেন।

হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। আইজি জুলফিকার হামিদ বলেছেন, হামলাকারীদের পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হামলার ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গভীরভাবে দুঃখজনক।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জারদারি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরণের প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।

কোহাট পুলিশ লাইনে এর আগেও বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।