মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে: মাহ্দী আমিন
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে বহু উচ্চপদস্থ ব্যবসায়ী ও নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকরী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারিখাতের সহায়তায় বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার লক্ষ্যে বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও দু’দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও নীতিসমূহ বাস্তবায়নে মার্কিন বেসরকারিখাত কীভাবে অবদান রাখতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে তারা কী ভূমিকা পালনে আগ্রহী, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং এক স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস চেম্বার অব কমার্স, এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা (ফেসবুক), ভিসা, মেটলাইফ, বোয়িং, উবার, সিসকো, এইচএসবিসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ একাধিক প্রভাবশালী বৈশ্বিক কোম্পানি এতে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতুল কেশপ বাংলাদেশ সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক বিনিয়োগকারী অংশীদার হতে পেরে মার্কিন কোম্পানিগুলো গর্বিত। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার যে ভিশন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে তারা সম্পূর্ণ আস্থাশীল। প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে বেসরকারিখাত এ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিডা-র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















