প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের শীর্ষ বৈঠক: ৫০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ৫০ জন উচ্চপদস্থ ব্যবসায়ী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নেন। আমেরিকার বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও নতুন সম্ভাবনার বার্তা
বৈঠক শেষে সাংবাদিকেদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, আলোচনায় বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সুদীর্ঘ বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও নীতিসমূহ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, বৈঠকে সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমেরিকায় বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ প্রসারে এ বৈঠক বড় ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, এই উদ্যোগ আমাদের সেদিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা, এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক বিনিয়োগকারী অংশীদার হতে পেরে মার্কিন কোম্পানিগুলো অত্যন্ত গর্বিত। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার যে ভিশন প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা অর্জনে আমরা সম্পূর্ণ আস্থাশীল। এই রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তি, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে মার্কিন বেসরকারি খাত অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি তাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, যা তারা আমেরিকার পুরো ব্যবসায়ী সমাজের কাছে পৌঁছে দেবেন।
বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা
প্রতিনিধিদলে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে— ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস চেম্বার অব কমার্স, এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা (ফেসবুক), ভিসা, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল, মেটলাইফ, বোয়িং, উবার, এশিয়া গ্রুপ, এপিআর এনার্জি, ভেনভা, ভিএফ কর্পোরেশন, কোর্তেভা এগ্রিসায়েন্স, সেলসফোর্স, উলকা সেমি, পাঠাও, সিসকো, অ্যাবট, মেট্রোট্যাক, এইচএসবিসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, অ্যানকোরলেস এবং ড্রিঙ্কওয়েল।
বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, মেটলাইফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেনা বুতারোভা, উবারের পাবলিক পলিসি প্রধান পিয়া ব্রুনারসহ আরও অনেকে।
সরকারের পক্ষে উপস্থিতি
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ও মুখপাত্ররা এবং বিডা-র (BIDA) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।






















