রোহিঙ্গা শিশু ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন সহায়তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের আশ্রয়দানকারী হোস্ট কমিউনিটির কল্যাণে নতুন করে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার Susan Ryle এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি Rana Flowers স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশু ও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা, কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়ার নতুন এই বহু-বছর মেয়াদি অর্থায়ন কর্মসূচি ইউনিসেফ এবং তার অংশীদার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
নতুন অর্থায়নের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) খাতে চলমান গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বজায় রাখা এবং আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে কক্সবাজারসহ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার শিশু ও পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় হোস্ট কমিউনিটির জন্যও সমান গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা শিশু এবং হোস্ট কমিউনিটির শিশুদের জন্য টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউনিসেফের যৌথ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, এই সহায়তা শিশুদের নিরাপদ, সুস্থ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চলমান মানবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখবে।