নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে প্যানেল পদ্ধতির দাবি বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বিধিমালা অনুযায়ী প্যানেলের মাধ্যমে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতি।
সমিতির নির্বাহী সভাপতি ড.গোলাম কিবরিয়ার স্বাক্ষরিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর সম্প্রতি দেওয়া এক আবেদনে সংগঠনটি উল্লেখ করে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে একটি নির্ধারিত প্যানেল গঠনের বিধান আছে কিন্তু তা সত্বেও অস্থায়ী নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র । ফলে নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, এ সংক্রান্ত একাধিক রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শূন্য পদ থাকায় জনগণ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সমিতির দাবি,মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের জন্য জেলা রেজিষ্ট্রার , জেলা প্রশাসক, উপজেলায় সাব-রেজিষ্ট্রার,উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চালু করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ভুয়া বা অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও কমে আসবে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে অস্থায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হলেও একটি জালিয়াতি চক্র অনেক ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরী করেন যাতে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়। বরং আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে এ জাতীয় সমস্যা থেকে উত্তরণ হবে।
এ ছাড়াও সমিতির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিধিমালা অনুযায়ী প্যানেলভিত্তিক স্থায়ী নিয়োগ চালু, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছরে উন্নীতকরণ, যোগ্য উত্তরাধিকারীদের সরাসরি নিয়োগের সুযোগ প্রদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা বন্ধে কঠোরতা বৃদ্ধি, নিবন্ধন ফি যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি এবং রেজিস্ট্রারদের জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সমিতির নেতারা মনে করেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হলে নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে সেবা পাবে।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।






















