ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধ হচ্ছে Logo নোয়াখালীতে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা: র‌্যাব-৭ Logo শার্শায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত Logo IUGIP প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি অ্যাকশন প্লান Logo রাজনৈতিক সংস্কারে কল সেন্টার: বিএনপির যুগান্তকারী পদক্ষেপ Logo সিলেট থেকেই প্রচারণা শুরু করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান Logo শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে অভিভাবক-শিক্ষক ঐক্য: লামায় চিল্ড্রেন হ্যাভেন ট্রাস্ট স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ Logo রাজশাহী গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ এর দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ Logo আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ড: র‌্যাব-৭ এর অভিযানে পলাতক আসামি শ্রী গনেশ গ্রেপ্তার Logo চাঁদগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলার পলাতক প্রধান আসামি গ্রেপ্তার- র‌্যাব-৭

জলবায়ু পরিবর্তনে কিশোরদের মানসিক সংকট কানাডায় নতুন সমীক্ষার চমকপ্রদ ফলাফল

নিজস্ব সংবাদ :

যদি কানাডার কিশোর-কিশোরীদের জিজ্ঞাসা করা হয়—“জলবায়ু পরিবর্তন তাদের কেমন লাগছে?”—তবে বেশিরভাগই রাখঢাক না করে স্পষ্ট উত্তর দেবে। আথাবাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৮০০ জন তরুণ-তরুণীর মধ্যে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই কিশোররা তাদের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেছে—কেউ বলেছে তারা উদ্বিগ্ন ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, আবার কেউ বলেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনবরত চিন্তায় ভুগছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একজন লিখেছেন, “আমি এখনই ভাবছি ভবিষ্যতে সন্তান নেব কি না, কারণ পৃথিবী তো ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।” আথাবাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ডঃ জিনা মার্টিনের নেতৃত্বে পোস্টডক্টরাল ফেলো ডঃ ঈশ্বর তিওয়ারির নেতৃত্বে এই গবেষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে বিরল কিছু তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করা যা  আগে খুব কমই হয়েছে—তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে শোনা, জলবায়ু পরিবর্তন তাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে ছাপ ফেলছে। ড. মার্টিন বলেন, “আমরা দেখছি, তরুণদের অনুভূতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম বুঝতে—তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।”

তরুণ প্রজন্ম সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন অনুভব করে
মানসিক চাপ কতটা ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছে তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে তাদের কথায় । কিশোর-কিশোরীরা কেবল ধ্বংসাত্মক ঘটনা বা অস্পষ্ট ভয়ের কথা উল্লেখ করেনি। তারা তাদের উদ্বেগগুলোকে  নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে যুক্ত করেছে। যেমন -ধোঁয়ায় দম বন্ধ আকাশ, তাপ সতর্কতা, বন্যার সময়কার রাস্তা অথবা বাতিল হয়ে যাওয়া খেলাধুলার অনুশীলন। তাদের কথায়, মানসিক ও শারীরিক চাপের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে। অনেকেই বলেছেন, বন্যা বা দাবানলের সিজনে ঘুমাতে সমস্যা হয়; কেউ কেউ জানিয়েছেন মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা ক্লান্তির মতো উপসর্গ। যদিও সমীক্ষায় শারীরিক অসুস্থতার প্রশ্ন করা হয়নি, তবুও অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই সেই উদাহরণ  টেনে এনেছেন।

আগামীকালের পৃথিবী নিয়ে উদ্বেগ
তাৎক্ষণিক চাপের বাইরেও, জরিপটি ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে  উদ্বেগকে তুলে ধরেছে  । কিশোর-কিশোরীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত বোধ করতে শুরু করেছে। কিশোরদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে—চাকরি, বাড়ি, কিংবা তাদের শহর আগামী দশ বছরে বাসযোগ্য থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন তাদের ঘিরে ধরছে। কেউ কেউ এমনকি পরিবার গঠন নিয়েও দ্বিধায় ভুগছে। এই অনিশ্চয়তা কেবল উদ্বেগ বাড়ায় না, এটি কিশোরদের পরিকল্পনা, পড়াশোনা ও স্বপ্ন দেখার ধরণকেও বদলে দেয়। সমীক্ষার আরেকটি শক্তিশালী দিক হল এর ব্যাপ্তি—এটি কানাডার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত কিশোরদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, শহর, গ্রাম ও দূরবর্তী অঞ্চল—সব জায়গা থেকেই মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে বেড়ে ওঠা

তরুণদের প্রতিক্রিয়া চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে  —প্রথমত, মানসিক প্রভাব: উদ্বেগ, ভয়, দুঃখ ও অসহায়ত্ব; দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: পড়াশোনা, কাজ ও জীবনের স্থিতিশীলতা নিয়ে দুশ্চিন্তা; তৃতীয়ত, পরিবেশ ও মানবজাতির প্রতি শোক: প্রকৃতির ক্ষয় ও ভবিষ্যতের ভয়; এবং চতুর্থত, দৈনন্দিন জীবনের বিঘ্ন: ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের অভাব, কিংবা পরিকল্পনা করতে না পারার অস্বস্তি। মার্টিন বলেন,  যদি তরুণরা বলে জলবায়ু পরিবর্তন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে—তাহলে সেটি বিশ্বাস করতে হবে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে। যদি আমরা এটি ভালোভাবে করতে পারি  তাহলে তরুণদের জন্য ভবিষ্যতের পথ আরো শক্তিশালী হবে। এটি  একটি সাধারণ ধারণা যে, পৃথিবী যখন পরিবর্তিত হচ্ছে, আমরাও এর সাথে পরিবর্তিত হচ্ছি – একসাথে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে।

সূত্র : আর্থ

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
৪৫৫৯ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু পরিবর্তনে কিশোরদের মানসিক সংকট কানাডায় নতুন সমীক্ষার চমকপ্রদ ফলাফল

আপডেট সময় ১২:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

যদি কানাডার কিশোর-কিশোরীদের জিজ্ঞাসা করা হয়—“জলবায়ু পরিবর্তন তাদের কেমন লাগছে?”—তবে বেশিরভাগই রাখঢাক না করে স্পষ্ট উত্তর দেবে। আথাবাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৮০০ জন তরুণ-তরুণীর মধ্যে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই কিশোররা তাদের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেছে—কেউ বলেছে তারা উদ্বিগ্ন ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, আবার কেউ বলেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনবরত চিন্তায় ভুগছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একজন লিখেছেন, “আমি এখনই ভাবছি ভবিষ্যতে সন্তান নেব কি না, কারণ পৃথিবী তো ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।” আথাবাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-লেখক ডঃ জিনা মার্টিনের নেতৃত্বে পোস্টডক্টরাল ফেলো ডঃ ঈশ্বর তিওয়ারির নেতৃত্বে এই গবেষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে বিরল কিছু তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করা যা  আগে খুব কমই হয়েছে—তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে শোনা, জলবায়ু পরিবর্তন তাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে ছাপ ফেলছে। ড. মার্টিন বলেন, “আমরা দেখছি, তরুণদের অনুভূতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম বুঝতে—তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।”

তরুণ প্রজন্ম সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন অনুভব করে
মানসিক চাপ কতটা ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছে তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে তাদের কথায় । কিশোর-কিশোরীরা কেবল ধ্বংসাত্মক ঘটনা বা অস্পষ্ট ভয়ের কথা উল্লেখ করেনি। তারা তাদের উদ্বেগগুলোকে  নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে যুক্ত করেছে। যেমন -ধোঁয়ায় দম বন্ধ আকাশ, তাপ সতর্কতা, বন্যার সময়কার রাস্তা অথবা বাতিল হয়ে যাওয়া খেলাধুলার অনুশীলন। তাদের কথায়, মানসিক ও শারীরিক চাপের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে। অনেকেই বলেছেন, বন্যা বা দাবানলের সিজনে ঘুমাতে সমস্যা হয়; কেউ কেউ জানিয়েছেন মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা ক্লান্তির মতো উপসর্গ। যদিও সমীক্ষায় শারীরিক অসুস্থতার প্রশ্ন করা হয়নি, তবুও অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই সেই উদাহরণ  টেনে এনেছেন।

আগামীকালের পৃথিবী নিয়ে উদ্বেগ
তাৎক্ষণিক চাপের বাইরেও, জরিপটি ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে  উদ্বেগকে তুলে ধরেছে  । কিশোর-কিশোরীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত বোধ করতে শুরু করেছে। কিশোরদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে—চাকরি, বাড়ি, কিংবা তাদের শহর আগামী দশ বছরে বাসযোগ্য থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন তাদের ঘিরে ধরছে। কেউ কেউ এমনকি পরিবার গঠন নিয়েও দ্বিধায় ভুগছে। এই অনিশ্চয়তা কেবল উদ্বেগ বাড়ায় না, এটি কিশোরদের পরিকল্পনা, পড়াশোনা ও স্বপ্ন দেখার ধরণকেও বদলে দেয়। সমীক্ষার আরেকটি শক্তিশালী দিক হল এর ব্যাপ্তি—এটি কানাডার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত কিশোরদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, শহর, গ্রাম ও দূরবর্তী অঞ্চল—সব জায়গা থেকেই মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে বেড়ে ওঠা

তরুণদের প্রতিক্রিয়া চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে  —প্রথমত, মানসিক প্রভাব: উদ্বেগ, ভয়, দুঃখ ও অসহায়ত্ব; দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: পড়াশোনা, কাজ ও জীবনের স্থিতিশীলতা নিয়ে দুশ্চিন্তা; তৃতীয়ত, পরিবেশ ও মানবজাতির প্রতি শোক: প্রকৃতির ক্ষয় ও ভবিষ্যতের ভয়; এবং চতুর্থত, দৈনন্দিন জীবনের বিঘ্ন: ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের অভাব, কিংবা পরিকল্পনা করতে না পারার অস্বস্তি। মার্টিন বলেন,  যদি তরুণরা বলে জলবায়ু পরিবর্তন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে—তাহলে সেটি বিশ্বাস করতে হবে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে। যদি আমরা এটি ভালোভাবে করতে পারি  তাহলে তরুণদের জন্য ভবিষ্যতের পথ আরো শক্তিশালী হবে। এটি  একটি সাধারণ ধারণা যে, পৃথিবী যখন পরিবর্তিত হচ্ছে, আমরাও এর সাথে পরিবর্তিত হচ্ছি – একসাথে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে।

সূত্র : আর্থ


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkercrime/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481