রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয়বার হামলার দাবি হুথিদের, ক্ষতিগ্রস্ত বিমান
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয়বারের মতো হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর রিয়াদগামী কয়েকটি ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
এর আগে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্তত তিনজন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালের কাছে পার্ক করা সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক বিমানে আগুন ধরে যায়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ অথবা অন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
তাদের ধারণা, আগুন লাগার সময় বিমানটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিমানবন্দর এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার পর বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাত্রীদের ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়। এ সময় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, একই সময়ে রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এভিয়েশন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দরের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শুক্রবার আরও ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে হুথিদের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
























