এসবি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি জহুরুলের ৫ দিনের রিমান্ড
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহুরুলের (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির আল আহসান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী শফি উজ্জামান স্বপন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জহুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোগ্যারেজের সামনে অটো রাখা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে।
ওই তর্কাতর্কি থামাতে গিয়ে আসামিদের হামলার মুখে পড়েন এসবি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা সেখানে হামলা চালায়। তারা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি করে এবং ক্যাশবাক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আহত আলতাফ হোসেন ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
























