ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুয়াকাটা ভ্রমণে গিয়ে পুকুরে ডাবল ডেকার বাস, আহত ১৫ Logo চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়তে পারে: পরওয়ার Logo মাসের শেষ দিকে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা Logo বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসায় কড়াকড়ি Logo মাদারীপুরে পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, আহত ৬ Logo নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ১১ দিনে ইরানের ১০০ কোটি ডলারের বেশি তেল আয় Logo ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার Logo আগস্টে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ২৫২ জন

দুই দিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কয়েক ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা। একই সঙ্গে আগে থেকেই চড়া দামে বিক্রি হওয়া ডিম, ব্রয়লার মুরগি, ডাল, পোলাওর চালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের পাইকারি দামও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তবে এর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে আলু ও পেঁয়াজের দামে। বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসারে চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ধীরে ধীরে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে কথা হয় মোটর ওয়ার্কশপের কর্মী মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকায় কিনলাম। দুদিন আগে ২০ টাকায় কিনেছি। ডাবল হয়ে গেছে।’

মিজানুর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে। তাদের অনেকে বেশি করে পণ্য কিনবেন। ব্যবসায়ীরাও সেই সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কী হবে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

আগারগাঁওয়ের কাঁচাবাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী কামাল হোসেন বলেন, তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দামও বাড়ছে। ফলে সংসারের বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেগুনবাড়ীর বাসিন্দা গৃহিণী মারিয়া বেগম গতকাল কারওয়ান বাজার থেকে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকায় কিনেছেন। তিনি বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বেশি হওয়ায় খোলা তেলই কিনতে হয়। কিন্তু তেল-আটার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বেড়েছে সবজির দাম

রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজারে গত মঙ্গলবার পটোল, ধুন্দল ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল এসব সবজি কিনতে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।

দুই দিনের ব্যবধানে লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়শের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে।

গত বুধবার কাঁচামরিচের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে।

কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে আগারগাঁওয়ে ভ্যানে বিক্রি করেন আবদুর রহিম। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারে এক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম পাঁচ কেজির পাল্লায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

তেলের সরবরাহ বাড়লেও দাম বেশি

কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

তবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম সরকারিভাবে না বাড়লেও বাজারে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম যথাক্রমে ১৮০ ও ১৬৩ টাকা হলেও ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৯০ ও ১৭৫ টাকা।

খোলা চিনিতেও বাড়তি দাম

প্যাকেটজাত চিনির তুলনায় খোলা চিনির দামও বেশি। প্যাকেট চিনি প্রতি কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও খোলা চিনির জন্য ক্রেতাকে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দিতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকলেও কোম্পানি ১০৯ টাকায় সরবরাহ করছে। ফলে খুচরা বিক্রেতার লাভ থাকে মাত্র এক টাকা। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো প্যাকেট চিনি সরবরাহ কমিয়েছে। এতে খোলা চিনির চাহিদা বেড়েছে।

তিনি জানান, ডাল, আটা, চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের পাইকারি দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব শিগগিরই খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।

আটা-ময়দার বাজারেও অস্বস্তি

গত এক থেকে দেড় মাসে আটার দামও বেড়েছে। খোলা আটা কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ময়দার দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা, ছোলার বুট ও মসুর ডালের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে খোলা আটার দাম ৩ শতাংশ এবং খোলা ময়দার দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ।

ঊর্ধ্বমুখী ডিম-মুরগির বাজার

গত দেড় মাস ধরে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন নিত্যপণ্যের আমদানি ও বাজারমূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কঠোর তদারকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এক অনুষ্ঠানে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চালু রয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র খোলা, আমদানি ও সরবরাহের ওপর সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৫১৩ বার পড়া হয়েছে

দুই দিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে

আপডেট সময় ১২:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কয়েক ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা। একই সঙ্গে আগে থেকেই চড়া দামে বিক্রি হওয়া ডিম, ব্রয়লার মুরগি, ডাল, পোলাওর চালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের পাইকারি দামও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তবে এর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে আলু ও পেঁয়াজের দামে। বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসারে চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ধীরে ধীরে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে কথা হয় মোটর ওয়ার্কশপের কর্মী মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকায় কিনলাম। দুদিন আগে ২০ টাকায় কিনেছি। ডাবল হয়ে গেছে।’

মিজানুর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে। তাদের অনেকে বেশি করে পণ্য কিনবেন। ব্যবসায়ীরাও সেই সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কী হবে—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

আগারগাঁওয়ের কাঁচাবাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী কামাল হোসেন বলেন, তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দামও বাড়ছে। ফলে সংসারের বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেগুনবাড়ীর বাসিন্দা গৃহিণী মারিয়া বেগম গতকাল কারওয়ান বাজার থেকে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকায় কিনেছেন। তিনি বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বেশি হওয়ায় খোলা তেলই কিনতে হয়। কিন্তু তেল-আটার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বেড়েছে সবজির দাম

রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও কারওয়ান বাজারে গত মঙ্গলবার পটোল, ধুন্দল ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল এসব সবজি কিনতে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।

দুই দিনের ব্যবধানে লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়শের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে।

গত বুধবার কাঁচামরিচের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় উঠেছে।

কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে আগারগাঁওয়ে ভ্যানে বিক্রি করেন আবদুর রহিম। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারে এক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম পাঁচ কেজির পাল্লায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

তেলের সরবরাহ বাড়লেও দাম বেশি

কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

তবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম সরকারিভাবে না বাড়লেও বাজারে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম যথাক্রমে ১৮০ ও ১৬৩ টাকা হলেও ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৯০ ও ১৭৫ টাকা।

খোলা চিনিতেও বাড়তি দাম

প্যাকেটজাত চিনির তুলনায় খোলা চিনির দামও বেশি। প্যাকেট চিনি প্রতি কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও খোলা চিনির জন্য ক্রেতাকে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দিতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকলেও কোম্পানি ১০৯ টাকায় সরবরাহ করছে। ফলে খুচরা বিক্রেতার লাভ থাকে মাত্র এক টাকা। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো প্যাকেট চিনি সরবরাহ কমিয়েছে। এতে খোলা চিনির চাহিদা বেড়েছে।

তিনি জানান, ডাল, আটা, চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের পাইকারি দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব শিগগিরই খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।

আটা-ময়দার বাজারেও অস্বস্তি

গত এক থেকে দেড় মাসে আটার দামও বেড়েছে। খোলা আটা কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ময়দার দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা, ছোলার বুট ও মসুর ডালের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে খোলা আটার দাম ৩ শতাংশ এবং খোলা ময়দার দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ।

ঊর্ধ্বমুখী ডিম-মুরগির বাজার

গত দেড় মাস ধরে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন নিত্যপণ্যের আমদানি ও বাজারমূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কঠোর তদারকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এক অনুষ্ঠানে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চালু রয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র খোলা, আমদানি ও সরবরাহের ওপর সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।