ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি, আব্বাসীকে আইনি নোটিশ Logo ইরান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন ওবামা, ট্রাম্পের পাল্টা আক্রমণ Logo নারায়ণগঞ্জে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশি হেফাজতে Logo ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২৪৯ রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ৭ Logo জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে উত্তাল ইউরোপ, সংঘর্ষ-গ্রেপ্তার Logo ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাত্রা শুরু, বাড়ল ভ্রমণের সময় Logo পুরাতন রমনা থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ Logo সাইবার অপরাধ দমনে গঠন করা হলো স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিট Logo শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে মাইকিং, নওগাঁয় আ.লীগের দুই সহযোগী সংগঠনের নেতা গ্রেপ্তার

ফ্যাসিবাদ সমর্থনকারী গণমাধ্যমকে সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদকে সমর্থন ও প্রচার করা গণমাধ্যমকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

আন্দালিভ রহমান বলেন, যেসব গণমাধ্যম বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, প্রচার কিংবা চর্চা করে, তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া সরকারের কিছু করার নেই।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকারের ছয় মাসের বিশেষ অর্জন নিয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’-এর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় কেউ ফ্যাসিবাদকে সমর্থন বা প্রচার করলে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া অন্য কিছু করার নেই। যারা মুক্ত বাংলাদেশ ও নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছরে যে মানসিকতা দেখা গেছে, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তবে বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বন্ধ বা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো মানসিকতা নেই।

বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের সব ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে গণমাধ্যমের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তবে জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের সবাইকে ফেরত আনা সরকারের স্পষ্ট দাবি বলে জানান তিনি।

সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কমসংখ্যক পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।

ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবর প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
৪৫৭৬ বার পড়া হয়েছে

ফ্যাসিবাদ সমর্থনকারী গণমাধ্যমকে সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৮:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদকে সমর্থন ও প্রচার করা গণমাধ্যমকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

আন্দালিভ রহমান বলেন, যেসব গণমাধ্যম বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, প্রচার কিংবা চর্চা করে, তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া সরকারের কিছু করার নেই।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকারের ছয় মাসের বিশেষ অর্জন নিয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম’-এর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় কেউ ফ্যাসিবাদকে সমর্থন বা প্রচার করলে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া অন্য কিছু করার নেই। যারা মুক্ত বাংলাদেশ ও নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছরে যে মানসিকতা দেখা গেছে, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তবে বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বন্ধ বা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো মানসিকতা নেই।

বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের সব ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে গণমাধ্যমের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি আদালত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। তবে জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সব অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের সবাইকে ফেরত আনা সরকারের স্পষ্ট দাবি বলে জানান তিনি।

সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কমসংখ্যক পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।

ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবর প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।